নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ মে, ২০১৬
দক্ষিণ সুরমায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের আভ্যন্তরীন বিরোধ, বিদ্রোহী প্রার্থী আর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান থাকাসহ বিভিন্ন কারণে বিপাকে রয়েছে আওয়ামী লীগ। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা।
শনিবার এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এরমধ্যে ৩ টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এসব ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের কারণে বিপাকে রয়েছে দল সমর্থিত প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকেই ভোট যুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগি হওয়ার কারণে বেশ বেকায়দায় পরেছেন মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা।
৫নং সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো.মুজিবুর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এম কে করিম কাওছার। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছেন মো.ইকরাম হোসেন। এতে করে ২ বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে মোকাবেলা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে ইকরাম হোসেনকে। ফলে এই ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন রয়েছেন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায়।
৮ নং মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মো.ফকরুল ইসলাম (সাইস্থা)। এই ইউপিতে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. চুনু মিয়া। এতে করে বিএনপির প্রার্থী মো.মাহমুদুল হক (সুহেল) আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
৯নং দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল হক। এই ইউপিতে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো.নুরুল ইসলাম রয়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এই ইউপিতে দলটির সাথে সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থী অটোরিক্সা প্রতীকে আলাউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবারের নির্বাচনে। ভোট ভাগাভাগির কারণে এই ইউপিতেও বিএনপির প্রার্থী এইচ এম খলিল সুবিধা নিতে পারেন বলে মনে করেন অনেকে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭ ইউপির মধে বরইকান্দি, কুচাই, লালাবাজার ও জালালপুর এই ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের রয়েছে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী।
২নং বরইকান্দি ইউপিতে ৫জন প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনী লড়াই হবে আওয়ামী লীগের হাজী মো. রইছ আলী ও বিএনপির মো. হাবিব হোসেনের মধ্যে। দুইজনই এই ইউপিতে চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিব হোসেনকে ঠেকাতে রইছ আলীকে বেশ বেগ পেতে হবে বলে জানিয়েছেন অনেক ভোটার।
দক্ষিণ সুরমা কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী রয়েছেন ২ জন। এই ইউপিতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আঠারো বছর চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালনকারী মো. আবুল কালাম। এবার তার সাথে লড়ছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী জাকিরুল আলম জাকির। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যাথ থাকায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন কালাম। তবে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এই ইউপিতে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের কাছ থেকে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের এবারের নির্বাচনে চর্তুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির জিয়াউর রহমান, আল ইসলাহ্ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কয়েছ মিয়া, জামায়াত সমর্থিত মো.সুলাইমান হোসেনের সাথে লড়াই হবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুর রহমান শাহীনকে। নির্বাচনী বৈতরণী পেরোতে থাকে কঠিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো.তোয়াজিদুল হক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ইউপি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী জামায়াত সমর্থিত পীর মো. ফয়জুল হক ও বিএনপির মো. সফিক আহমদের মধ্যে। যদিও এই ইউপিতে একাধিক জামায়াত প্রার্থী রয়েছেন। শেষ পর্যন্দ নৌকা প্রতীকই তোয়াজিদুলের ভরসা।