Sylhet Today 24 PRINT

অটোরিক্সা চালক থেকে ‘দুর্ধর্ষ ডাকাত’!

দেবব্রত চৌধুরী লিটন |  ০৯ মে, ২০১৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লোকমান হোসেন (২২) । বাবা চিনা মিয়ার মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে অটোরিক্সা চালানো শুরু করেন। ৩ ভাই ৩ বোনের মধ্যে লোকমান ২য়। বড় ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাই সংসার চালানোর দায়িত্ব বর্তায় লোকমানের উপর।

অটোরিক্সা চালাতে গিয়ে লোকমানের সাথে পরিচয় হয় অনেকের। অনেকের সাথেই মিশতে হয়। এভাবে যে একদিন লোকমান ডাকাত দলের সাথে মিশে যাবেন তা ভাবতেই পারেন নি তার মা হোসনা বেগম।

আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে আটক করে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে সিলেট মহানগর পুলিশ। এদের মধ্যে ৫ জনই সিলেটের বাইরের বাসিন্দা। কেবলই লোকমানই সিলেটের।

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরীতে ঘটা সবগুলো ডাকাতির সাথে এরা জড়িত। ঘনঘন ডাকাতির ঘটনা ঘটায় সিলেটের আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেছে- ডাকাত। ডাকাত তাড়াতে রাত জেগে পাহারাও দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ৬ জন সিলেট নগরীতে সংঘটিত কয়েকটি ডাকাতির সাথে সম্পৃক্তার কথা স্বীকারও করেছে।

আরও পড়ুন : যাদের মা নেই

রোববার (৮ মে) বেলা ১টার কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে লোকমানের মা হোসনা বেগম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লোকমান একসময় অটোরিক্সা চালাতো। অটোরিক্সা চালাতে গিয়েই অপরাধীদের সাথে পরিচয় হয় তার। সঙ্গ দোষে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে লোকমান। প্রথমে ছোট খাট অপরাধ দিয়ে শুরু, একসময় টাকার নেশায় আসক্ত হয়ে পরে সে।

হোসনা বেগম জানান, লোকমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকার কারণে পুলিশের ভয়ে কিছুদিন ঢাকায় গাঁ ডাকা দেয় সে। ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরীও নেয়। এসময় যাত্রাবাড়ী এলাকার স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে লোকমান। সেখান থেকে এই মেয়েটিকে নিয়ে সিলেটে চলে আসে।

এসময় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাথে পরিচয় হয় তার। জড়িয়ে পড়ে ডাকাতির সাথে।

লোকমানের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার মোহাম্মদপুর (মজিদপুর) গ্রামে।

আরও পড়ুন : নিজামীর জাগতিক পাপ ছিলো না, দাবি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্লাহ জানান, ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ৬ জন লোহার গ্রিল কেটে ডাকাতিতে পারদর্শী। গ্রেফতারকৃতরা ঢাকায় দামী ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো। ডাকাতি করার জন্য বেশ কয়েকবার নির্দিষ্ট স্থানে রেকি করতো। এরপর নির্দিষ্ট দিনে চালাতো ডাকাতি।

তিনি জানান, ডাকাতদের ধরতে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.