মারূফ অমিত | ১১ মে, ২০১৬
গেটের ভেতরে অধির আগ্রহে দাঁড়িয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। পাশে দাঁড়ানো অভিভাবকরা। স্কুলের শিক্ষিকা মাইকে ঘোষণা করার সাথে সাথেই সবাই জড়ো হলেন ঘোষণা মঞ্চের সামনে। নবম দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ড্রামস নিয়ে দাঁড়ানো বাজানোর জন্য। প্রধান শিক্ষিকা ফলাফল ঘোষণা শুরু করার সাথে কেউ কেউ বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে শুরু করলেন লাফালাফি, কেউ কেউ আবেগে অশ্রু সিক্ত হয়ে দাঁড়ানো। কেউ বা নিজের ফলাফল শুনে নির্বিকার। আজ এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার সময় এমন দৃশ্য দেখা গেল সিলেট অগ্রগামী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
বুধবার (১১ মে) দুপুর আড়াইটায় ঘোষণা করা হয় এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল।
ফলাফল জানতে আসা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী শেখ নাজমিন আক্তার জানান, তিনি খুবই আনন্দিত। ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না তিনি কি পরিমাণ খুশি।
তিনি জানান, তার দশ বছরের সাধনা আজ সফল হয়েছে।
নাজমিন আক্তারের সাথে থাকা মা তাহহিনা চৌধুরী জানান, আমি খুব খুশি। আমার খুব ভালো লেগেছে আমার মেয়ে এ প্লাস পেয়েছে। আমি তার ( নাজমিন আক্তার) শিক্ষকদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।
এর বিপরীত দৃশ্য দেখা গেল একটু পাশেই। জিপিএ ৪.৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী খালেকিন খায়ের নির্বিকার। চোখের কোণায় জল টলমল করছে। চুপচাপ মুখে হাত দিয়ে দাঁড়ানও খালেকিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কথা বলার কোন ভাষা নেই। রেজাল্ট কিভাবে এত খারাপ হলও বুঝতেই পারছি না। আমি জে এস সিতে এ প্লাস পেয়েছি। এস এস সিতে কিভাবে এত খারাপ হলও, হাউ ইজ পসিবল!
অন্য একজন শিক্ষার্থী মনিরা হাবীব নুহাকেও দেখা যায় তাদের পাঁশে দাঁড়িয়ে থাকতে। ফলাফলের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এই রেজাল্ট কিভাবে সম্ভব। আমি রেজাল্ট রিভিউ করব।
মনিরা হাবীবের সাথে থাকা অভিভাবক মাহরিন সুলতানা জানান, আমরা বাসায় গিয়ে চিন্তা করব রেজাল্ট পুনরায় রিভিউ করব কিনা।
ফলাফল জানতে আসা আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা খুশি। আমাদের পিতামাতা শিক্ষকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বাবলী পুরকায়স্থ জানান, রেজাল্ট মোটামোটি হয়েছে। আমাদের শতভাগ রেজাল্ট হয় নি। পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নে সমস্যা থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর এ প্লাস ছুটে গেছে। তাই খুব একটা সন্তুষ্ট নই আমরা। তবে যারা ভাল রেজাল্ট করেছে তাঁদের অভিনন্দন।
উল্লেখ্য, অগ্রগামী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২৯৩ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২৮৮ জন। পাশের সংখ্যা ৯৮.২৯। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১১৩ জন। জিপিএ ৪ পেয়েছেন ১৫৭ জন, জিপিএ ৩.৫ পেয়েছেন ১৫ জন, জিপিএ ৩ পেয়েছেন ৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ জন।