বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ০৮ মার্চ, ২০১৫
বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উত্তাপন করেছেন খোদ কাউন্সিলররা। এ ধরণের অভিযোগ এনে ইউনিয়নের ৮৮জন নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা নেতৃবৃন্দ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত গঠনতন্ত্রের আলোকে এবং তৃণমুল কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী ১২ মার্চ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী পরিষদের সভায় শেওলা ইউনিয়নের কমিটি গঠনে কাউন্সিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়। গত ৪ মার্চ দুপুর ১২ টায় এ ইউনিয়নের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল।
সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীদের স্বাক্ষর করা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পকেট কমিটি গঠন এবং কাউন্সিল ছাড়া কমিটি গঠনের আশঙ্কা জানানো হয়েছে।
শেওলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামাল হোসেন বলেন, চাপিয়ে দেয়া কমিটি গঠনের আশঙ্কা থেকে জেলায় অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে যেমন কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে শেওলায়ও কমিটি গঠন করা তৃণমূল কর্মীদের দাবী।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সামছ উদ্দিন খান বলেন, কাউন্সিল হলে কর্মীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তাই শেষ পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা চালানো হবে।
উপজেলার অন্যতম এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কমিটিতে সভাপতি পদে ৬জন এবং সম্পাদক পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শেওলা ইউনিয়নের বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানসহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতা পর্ব শেষ হওয়ার পর যথারীতি কাউন্সিল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সমঝোতার নামে উপস্থিত জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ অযথা সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। পরবর্তিতে কাউন্সিলারদের দাবীর মুখেও কাউন্সিলের পরবর্তি তারিখ ধার্য্য করে চলে আসেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা।