নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ মে, ২০১৬
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়েজ আমিন রাসেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. মো. আবু জাহির এমপি ও সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল মজিদ খান এমপির নির্দেশক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফয়েজ আমিন আলোচনায় আসেন এ বছরের শুরুতে (১৭ ফেব্রুয়ারি, বুধবার) সিলেটের ওসমানীনগরে এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে ফেসবুকে প্রকাশ করার পর। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও অন্যের বাড়ি দখলের অভিযোগে মামলা থাকার কারণে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা এবং প্রকাশ হওয়ায় সে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আরও পড়তে পারেন : প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম যৌন নিপীড়নের আসামী ফয়েজকে চিনতেন না
ফয়েজ আমিনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করা হয়। (মামলা নং- ৫৫৪/২০১৫)। বর্তমানে তিনি জামিনে থাকলেও মামলাটি বিচারাধীন। রাসেলের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জে বাড়ি জবর দখলের ঘটনায় মামলাও রয়েছে (৩৭৮/১) ।
জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আমীন রাসেল গত বছরের ৩০ নভেম্বর হবিগঞ্জে এক গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, জামিন পেয়ে বের হলেও সেই মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
এদিকে, ফয়েজ আমীন রাসেলের সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠলে সে ছবি বিতর্ককে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসাবধানতাবশত বলে মন্তব্য করে বিবৃতিও দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
১৮ ফেব্রুয়ারি এ প্রসঙ্গে তারানা হালিম বলেন,‘সিলেট সফরকালীন শত শত মানুষ আমাকে এসে ফুল দিয়ে গেছেন, ছবি তুলেছেন। এতো মানুষের ভিড়ে কে চোর, কে ডাকাত, কে ধর্ষক; তা নিশ্চয় আমার চিনবার কথা নয়?
‘তবে উক্ত সংবাদে যাকে ধর্ষক বলা হয়েছে, সে তথ্য যদি সঠিক হয়; তবে আপনাদের মতো আমিও তার শাস্তি দাবি করবো এটাই স্বাভাবিক। কেননা, রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী হিসেবে যেকোনো অন্যায়কে আমি কখনও কোনদিন প্রশ্রয় দেয় নাই, ভবিষ্যতেও দিব না।’