সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ মে, ২০১৬
নির্বাচন আর মাত্র কিছু দিন বাকি।সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ৪নং বানিয়াচং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের নির্বাচন।
সূর্যোদয় থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘোরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা।দিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রতি।সর্বত্রই শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের প্রতীক সম্বলিত পোস্টার।
ফসলের মাঠ থেকে চায়ের স্টল পর্যন্ত সবখানেই সরগরম এই নির্বাচনকে ঘিরে।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীর পক্ষে ছোট ছোট গ্রুপ করে সমর্থকেরা নেমে পড়েছেন মাঠে।বানিয়াচংয়ে এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে।বিভিন্ন স্থানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা দলবেধে মহড়া,নির্দিষ্ট সময়ের আগে মিছিল,সমাবেশ,মাইকিং এবং যত্রতত্র পোস্টারিং করছেন।
প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের অভিযোগ,অধিকাংশ স্থানে প্রার্থীরা নির্বাচনী আইনের তোয়াক্কা করছেন না।এমনকি আচরণবিধি লংঘনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।
প্রশাসন রহস্যময় কারণে উদাসীন রয়েছে। এই নির্বাচনী প্রচারণা চলছে জোরেশোরে।মাইকে গানে গানে প্রচারণায় ভোটাররা উৎসাহের চেয়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন বেশি।নির্বাচনী আচরণবিধিকে একটি মাত্র মাইক দিয়ে প্রচারণা চালানোর আইন রয়েছে।কিন্ত অধিকাংশ প্রার্থীরা তা মানছেন না।রিক্সায়,টমটমে ও সিএনজির আগে পিছে দুইটি মাইক লাগিয়ে উচ্চস্বরে প্রার্থীদের গুনগান গেয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে এই নির্বাচনে অবৈধ টাকা দিয়ে ভোট কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।জানা যায়,শনিবার রাতে পাঠানটুলা মহল্লার গুটিকয়েক যুবক একটি নামসর্বস্ব সমিতির নাম নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে তাকে ৫৫ হাজার টাকা নেন। বিনিময়ে তাকে ৮০টি ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন ওই সমিতির সভাপতি,ক্যাশিয়াসহ সমিতির সদস্যরা।টাকা নেওয়ার পরে সমিতির সদস্যরা প্রার্থীর বাড়ি থেকে একটি মিছিল বের করে পাঠানটুলা মহল্লায় এসে শেষ করে।টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওই সমিতির এক সদস্য।
এলাকাবাসী জানান,সব মিলিয়ে এবারের এই ইউনিয়নে নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে প্রার্থীদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে চলছে অবৈধ টাকার ছড়াছড়ি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মহল্লার এক ভোটার জানান- সামান্য টাকার বিনিময়ে নিজের ভোট বিক্রি করা মানেই হলো নিজের বিবেকের কাছে নিজেই ছোট হয়ে থাকা।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা রিটার্নিং অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে উনাকে পাওয়া যায় নি।