শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ২৩ মে, ২০১৬
সারাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৫ম ধাপে আগামী ২৮ মে মৌলভীবাজারের চা বাগান অধ্যুষিত পর্যটন উপজেলা শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও প্রচারনা চলা অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে জেলা নির্বাচন কমিশন উচ্চ আদালতের নিদের্শে শ্রীমঙ্গলের ২টি ইউনিয়নের নির্বাচন সাময়িক স্থগিত ঘোষনা করায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বাহিরে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে শেষ মূহুর্তের প্রচারনায় কেউ কাউকে একবিন্দুও ছাড় দিতে নারাজ।
মৌলভীবাজার জেলার চা বাগান অধুষ্যিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টির মধ্যে প্রচারনা চলা অবস্থায় ২টি ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে প্রতিটি গ্রামগঞ্জ হাটবাজার। রাস্তাঘাট আর অলিতে গলিতে পোষ্টার পোষ্টারে সয়লাব। চলছে মাইকিং, প্রচার প্রচারনা, উঠোন বৈঠক, সভা সমাবেশ ও ভোটারদের হাতে হাত রেখে ভোট চাওয়া।
এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে নির্বাচনের পূর্বে দলীয় ভাবে তৃণমূলের মতামত নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির দলীয় প্রার্থী মনোনিত করলেও সেখানে নানা অভিনয় ও অভিযোগ এনে প্রতিটি ইউনিয়নে উভয় দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বেকায়দায় পড়েছেন নেতাকর্মী থেকে সাধারন ভোটাররা। তবে দলীয় প্রতীক নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ের ব্যাপার আত্মবিশ্বাসী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনে করেন স্থানীয় নিবাচন দল নয় ব্যক্তি প্রধান। তাদের দাবী যে সব ইউনিয়নে তৃণমূলকে পাশ কাটিয়ে এবং দলের প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে যাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন।
অপরদিকে নির্বাচনকে ঘিরে শুধু চেয়ারম্যান নয় সাধারন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের মাঝেও লেগেছে উৎসবের আমেজ। তারা দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। ভোটারদের কাছে চাইছেন দোয়া ও ভোট।
অপরদিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাথে সদর ইউনিয়নের সীমানা জটিলতার কারনে বিগত পৌর নির্বাচনে ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত হন পৌরবাসী। আর সদর ইউনিয়নবাসী প্রত্যাশীত নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর নির্বাচনের প্রচারনার মাত্র এক সপ্তাহ পর উচ্চ আদালতের নিদেশে শ্রীমঙ্গলের সদর ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করায় অনেকটাই হতাশ প্রার্থী, ভোটার ও সাধারন নাগরিক।
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকসহ মোট ২৬জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১৫জন এবং সাধারন সদস্য পদে ৩৩৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫৬৭ জন ভোটার ৭টি ইউনিয়নে ৯০টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এদিকে এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে শেষ মূহুর্তে প্রচার প্রচারনায় চলছে ঠান্ডা বাকযুদ্ধ। দলীয় প্রার্থীরা চাচ্ছেন নির্বাচিত হয়ে দলের মুখ উজ্জ্বল করতে। আর বিদ্রোহী প্রার্থীরা চাচ্ছেন নির্বাচিত হয়ে সমুচিত জবাব দিতে। ফলে দিনরাত নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ী বাড়ী ছুটে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রার্থীরা বড় ধরনের নির্বাচনী আচরন বিধি ভঙ্গ না করলেও বিশেষ করে এই উপজেলায় সবকটি ইউনিয়নে বড় দুই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় উভয় দলের নেতাকর্মী থেকে ভোটারদের মাঝে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। তবে শেষ মূহুর্তের প্রচারনায় সাধারন মানুষ এবং ভোটাররা চান যারা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন সে সব প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে।
আবার অতীতে প্রতিটি নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় অবাধ ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন হবে কিনা এ নিয়ে সাধারন ভোটার অনেকটাই শংকিত। তবে তাদের প্রত্যাশা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সংঘাতহীন নির্বাচন।
অপরদিকে ২২ মে শ্রীমঙ্গল থানায় সাংবাদিকদের নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের নিয়ে নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। প্রত্যোকটি ইউনিয়নে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং ২টি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যে জায়গাগুলোতে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ আমরা সেইগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে ব্যবস্থা নিয়েছি। একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহবুবুর রহমান।