বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৩ মে, ২০১৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রবিবার (২২ মে) রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক হাস-মুরগি, ৮টি ছাগল, ধান-চাল, টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা দাবি করছেন।
এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ছুটোছুটিতে তোফায়েল আহমদ নামে ২ বছরের এক শিশুপুত্রসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। আহত শিশুকে বড়লেখা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৩ ঘন্টার চেষ্টায় বড়লেখা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭নং ঘর থেকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে দ্রুত আগুন অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়লে রহিম উদ্দিন, সফিক উদ্দিন, মিনারা বেগম, হোছনা বেগম, আছমা বেগম, হারিছ আলী, বিলকিছ বেগম, সালেহা বেগম, রেহানা বেগম ও আমির হোসেনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় সবাই শবে বরাতের নামাজ আদায় করছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্থ ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ছুটোছুটিতে কমপক্ষে শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানান, হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে সবাই চিৎকার শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করি। আগুনের তীব্রতা থাকায় নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা ব্যর্থ হই। আগুনে আমার আসবাবপত্র, নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ সোমবার(২৩ মে) জানান, অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে তাদের বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সবাইকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ৫০ কেজি করে চাল ও ডাল দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর নির্মাণে দ্রুত সাহায্যের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
বড়লেখা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিমাংশু রঞ্জন সিংহ সোমবার (২৩ মে) অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন সোমবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর পরিদর্শন করেন। এসময় তারা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন।