দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ২৩ মে, ২০১৬
দেবতার সম্পত্তি। অথচ দেবতার মন্দিরই ২৫ বছর ধরে বন্ধ। দেবতার প্রতিমাও নেই। শিল্পপতি রাগীব আলী তারাপুর চা বাগান দখল করার পর এই বাগান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় দেবতার প্রতিমা। সেই থেকে বন্ধ ছিলো রাধামাধবের মন্দিরও।
অবশেষে ২৫ বছর পর তালা খুললো তারাপুর চা বাগানের রাধা মাধব মন্দিরের। গত ১৫ মে দেবোত্তোর সম্পত্তির এই বাগান রাগীব আলীর দখল থেকে উদ্ধার করে সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দখল বুঝে পাওয়ার পর গত দুদিন ধরে বাগানের মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু করেন পঙ্কজ।
আগে বাগানে প্রথম পাতা চয়ন করা হলে তা মন্দিরে সামনে রেখে রাধামাধব দেবতার নামে উৎসর্গ করতেন শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন ধরে রাধামাধবের প্রতিমা নেই। মন্দিরও তালাবদ্ধ। তবু রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর প্রথম তোলা চা পাতা বন্ধ মন্দিরের সামনে রেখে দেবতাকে উৎসর্গ করতেন শ্রমিকরা।
বাগান মালিকের বাড়িতে কাজের পাশাপাশি রাধামাধব মন্দিরের বাসন ধোয়ামোছার কাজ করতেন আশি-ঊর্ধ্ব মঞ্জু মোদি। সোমবার দুপুরে মন্দিরের এক কোণে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছিলেন। তাঁর এই কান্নার কারণ জানতে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক নারী চা শ্রমিক জানালেন, অনেক দিন পর মন্দিরটি খোলা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি মঞ্জু।
এই বাগানের বাসিন্দা রিনা রায় (৬৫) সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অনেক বছর পর আমাদের 'মালিক' এসে মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। এই কাজের জন্য খোলা হয়েছে মন্দিরের দরজা। মন্দিরে যাতে খুব তাড়াতাড়ি পূজা শুরু হয় এটাই তার চাওয়া বলে জানান রিনা।
রিনা এসময় বলেন, প্রতি বছরই যখন বাগানের নতুন চা পাতা তোলা শুরু হয় তখন প্রথম কিছু চা পাতা দেবতার মন্দিরে নিয়ে আসা হয় দেবতার সন্তুষ্টির জন্য। যাতে দেবতার আশীর্বাদে চা পাতার ফলন ভাল হয়। এতোদিন মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা মন্দিরের বারান্দায় নতুন চা পাতাগুলো রেখে যেতেন দেবতার উদ্দেশ্যে। মন্দিরটি সংস্কার কাজ শেষে দেবতার পূজা শুরু হলে আনন্দ পাবেন বলে জানান রিনা।
তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৫ মে বাগানের দায়িত্ব প্রশাসন আমার কাছে বুঝিয়ে ছিলো। তখন মন্দির সংলগ্ন ঘরটি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও এটি এখনো আমার দখলে না আসায় সেবা পূজা শুরু করতে পারছি না।
এসময় পঙ্কজ বলেন, এখন পর্যন্ত রাগীব আলী আমার কাছে এই বাগানের কোন কাগজপত্র বুঝিয়ে দেননি। এমনকি ১৫ তারিখে আগের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাও দেননি তিনি। তাই বকেয়া পাওনা আদায় নিয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে। রাগীব আলীর কাছে শ্রমিকদের অনেক পাওনা বকেয়া রয়েছে বলে জানান পঙ্কজ।
মন্দির সংস্কারের পর আবার মন্দিরে রাধা মাধবের প্রতিমা স্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, পঙ্কজ গুপ্তের পিতামহ বৈকুণ্ঠ গুপ্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এই বাগানটি রাধামাধব দেবতার নামে দান করেছিলেন।