Sylhet Today 24 PRINT

‘চউখর সামনে সব পুড়িয়া ছাই অই গেছে’

তপন কুমার দাস, বড়লেখা  |  ২৩ মে, ২০১৬

‘চউখর সামনে সব পুড়িয়া ছাই অই গেছে। ঘরো আর ঢুকতে পারলাম না, নিতাম পারলাম না কোনতা। পরনে একটা কাপড় ছাড়া এখন আর কোনতা নাই। ছেলে-মেয়ের পড়ার বইগুলাও পুড়ি গেছে। এখন কিলা খাইতাম, কিলা বাঁচতাম। কই থাকতাম চিন্তায় শেষ অই যাইয়ার।’

সোমবার (২৩ মে) দুপুরে পোড়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মিনারা বেগম। আগুনে ঘরের সাথে পুড়ে গেছে তার পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত এ আশ্রয়ন প্রকল্পে রবিবার (২২ মে) দিবাগত রাতের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মিনারা বেগমের মতো আরো ৯টি পরিবারের ঘর পুড়েছে। পুড়েছে অর্ধশতাধিক হাস-মুরগি, ৮টি ছাগল, ধান-চাল, টাকা ও আসবাবপত্র।

সোমবার (২৩ মে) দুপুরে সরেজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গেলে দেখা গেছে, মিনারা বেগম এর মতো অন্যরাও পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র নেড়ে ছেড়ে দেখছেন আর কাঁদছেন।
শুধু মিনারা নয়, আগুনে পুড়েছে রহিম উদ্দিন, সফিক উদ্দিন, হোছনা বেগম, আছমা বেগম, হারিছ আলী, বিলকিছ বেগম, সালেহা বেগম, রেহানা বেগম ও আমির হোসেনের ঘর। সঙ্গে বেঁচে থাকার সম্বলও।

তেমনি একজন হারিছ আলী। তার হাস-মুরগি, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ২ বছরের শিশুপুত্র তোফায়েল আহমদ। সে বর্তমানে বড়লেখা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আশ্রয়ণের আরেক বাসিন্দা রহিম জানালেন, আগুনে ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ঘরে যেসব কাপড় ছিলো তার একটাও নিতে পারেননি।


রবিবার (২২ মে) রাতে বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০টি বসত ঘরের সাথে অর্ধশতাধিক হাস-মুরগি, ৮টি ছাগল, ধান-চাল, টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা দাবি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ন প্রকল্পের ৭নং ঘর থেকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের সময় সবাই শবেবরাতের নামাজ আদায় করছিলেন।

সোমবার (২৩ মে) সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে চাল ও প্রায় ৪ কেজি করে ডাল দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে নগদ টাকা, কাপড়সহ জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন, মঈন উদ্দিন, আজিজ আহমদ প্রমুখ।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন ও মঈন উদ্দিন বলেন, ‘ভূমিহীন পরিবারগুলো অগ্নিকান্ডে বসতঘরসহ সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে। আমরা এলাকার সব বাড়ি থেকে নগদ টাকা, কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে তাদের দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থদের এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয়ও দেওয়া হয়েছে।  

এছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.