নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মার্চ, ২০১৫
পাশেই দাঁড়িয়ে একদল পুলিশ, কাছাকাছি দুরত্বেই দাঁড়িয়ে আছে বিজিবি'র একটি গাড়ি, ভেতরে বিজিবি সদস্যরা বসা, তার পাশ দিয়েই মিছিল করছে বিএনপি। তাও নিজেদের ব্যানার নিয়ে। পুলিশ বাঁধা দিচ্ছে না, ধাওয়া করছে না। এমন দৃশ্য কতদিন পরে দেখলো সিলেটবাসী। পুলিশী ভয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজপথ ছেড়ে দেওয়া বিএনপিকে আবার রাজপথে ফিরিয়ে আনলো বাংলাদেশের বিজয়। মঙ্গলবার বিকেলে কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে বিএনপি।
এরআগে সকালে একইস্থান থেকে বিজয় মিছিল করে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ, দীর্ঘদিন পর আজ আবার একই ইস্যুতে, একই উদ্দেশ্য মিছিল করলো দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের সময়ে এও এক বিরল ঘটনা।
একটি বিজয় কেমন বদলে দিতে পারে পুরো দৃশ্যপট। আত্মগোপনে চলে যাওয়া রাজনীতিকেরাও বিজয় উৎসবে প্রকাশ্যে রাজপথে নামেন, দলীয় বিভেদ ভুলে সকলে শরীক হন বিজয় উল্লাসে, রাজৈনিতক বৈরিতা ভুলে বিজয় নিয়ে মেতে উঠেন খোশগল্পে, আর হরতাল-অবরোধ-পেট্রোল বোমায় ক্ষতবিক্ষত সাধারণ মানুষের সকল দুঃখবোধ যেনো এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ঐতিহাসিক।
ইংলিশ বধের প্রায় ২৪ ঘন্টা পেরোতে শুরু করেছে। তবু এখনো সিলেটজুড়ে বিরাজ করছে আগেরদিনের জয়ের রেশ। সর্বত্রই একই আলোচনা। কেমন করে স্বপ্নপুরণ করলো টাইগাররা। মাশরাফি, রুবেল, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকদের কৃতিগাথা সকলের মুখে মুখে।
টানা হরতালের কারনে ব্যবসা বাণিজ্য নেই। দীর্ঘদিন পর আজ হরতাল ছিলো না। বাংলাদেশের বিজয়ে হরতাল শিথিল করে ২০ দলীয় জোট। এই সুযোগে প্রায় দুই মাস পর কর্মদিবসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেন ব্যবসায়ীরা। তবে আজ কারো মনেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দায় খেদ ছিলো না। বরং আজ ব্যবসায়ী থেকে কর্মচারী সকলেই ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। পাশ্ববর্তী দোকানের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিজয় আলোচনায় মেতে উঠেন সকলে। অনেকে আবার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপরে টানিয়েছেন প্রিয় পদতাকা। লাল-সবুজের পতাকা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ তেমন ক্লাস হয়নি। বাংলাদেশের জয় নিয়ে খোশ গল্পে মেতেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই অবস্থা ছিলো নগরীর সরকারী-বেসরকারী অফীসগুলোতেও।
কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপি কয়েকটি পাড়া মহল্লা থেকেও আজ বিজয় মিছিল করেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। সকলের হাতে পতাকা, মুখে শ্লোগান, আর হৃদয়ে বাংলাদেশ।
আজকের নগরীর বিজয় উদযাপনের চিত্র দেখে কে বলবে, এখানেই টানা দুই মাস ধরে হরতাল-অবরোধ চলছে। পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়ে মরছে।
ক্রিকেট আমাদের কাছে এমনই। বিজয় আমাদের কাছ এমনই পার্থিব। সেই জয় পেলে সকল ভুলে আমরা মেতে উঠি বিজয়োল্লাসে।