সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ মে, ২০১৬
সিলেট নাটক পাড়ায় “বাঘের শিন্নী” নামে নতুন নাটক মঞ্চে উঠছে। সিলেট জেলা শিল্পকলা একডেমি মিলনায়তনে ২৭ মে, শুক্রবার সন্ধ্যায় নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটির রচনায় ও নির্দেশনায় রয়েছেন প্রথিতযশা নাট্যব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মণ।
জানা যায়, বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি বাঘের শিন্নীর গান নিয়ে নাটকটির মূল পটভূমি রচিত। একসময় বাংলা জুড়েই ছিলো তাদের অবাধ বিচরণ। জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানব সভ্যতার বিস্তারের ফলে বনাঞ্চল সংকুচিত হয়ে যায়। এক সময় শিকারের আশায় বাঘ লোকালয়ে হানা দিতে শুরু করে। বাঘের থাবা থেকে গৃহপালিত পশুপাখি ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়। গ্রামের গৃহস্থরা বাঘের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে সারারাত আগুন জ্বালিয়ে পাহারা দিতো। কখনোবা বিকট শব্দের নানাপ্রকার বাদ্য বাজিয়ে বাঘকে ভয় দেখাতো। যুগ যুগ ধরে বাঘ তাড়ানোর এই বিষয়টি গ্রামীণ সমাজে মিশে যায়। নাচ-গান বাদ্য-বাজনায় বাঘ তাড়ানোর রীতিনীতি হয়ে উঠে এক নতুন সংস্কৃতি।
মেঘালয়ের পাদদেশে লৌকিক পীর আরফিন শাহের মাজারে বাঘ তাড়ানোকে কেন্দ্র করে “বাঘের শিন্নী” নামে শিরনী দেয়ার রেওয়াজ শুরু হয়। বাঘের শিন্নীর মূল চালিকাশক্তি গ্রামের গৃহস্থদের আস্থাভাজন রাখালরা। তবে আজকের দিনে রক্তলোলুপ এই প্রাণিটি মানুষের মনোরঞ্জেনের বস্তু হিসেবে ঠাই পেয়েছে চিড়িয়াখানায়। বাঘের অত্যাচার থেকে মানুষ আজ মুক্ত। নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বাঘকে সমাজ জীবনের পশুত্বের সাথে তুলনা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লেবাসধারী পশু এবং ৭১ পরবর্তী মানুষরূপী প্রেতাত্মাদেরও নাটকের গল্পে সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে “বাঘের শিন্নী” নাটকে অভিনয় করেছেন- খলিলুর রহমান ফয়সাল, আলীরেজা হাসিব, সজয় দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, ভক্তি দাশ, দেবী রাজলক্ষী তালুকদার, সৈয়দ সুমন, আদনান নাহিয়ান, রাফসান অনন্ত, নিলয় তালুকদার, বাহাউদ্দিন নাসিম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, বুরহান উদ্দিন, আশরাফুল আহমেদ, হামিদা খানম লীনুসহ নাটক বিভাগের প্রশিক্ষনার্থীবৃন্দ।
নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বলেন, “যুগ যুগ ধরে গ্রামের রাখালরা দেশ ও সমাজকে রক্ষা করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধেও গ্রামের রাখালরাই শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধটা গড়ে তোলেন। চাষাভূষা বা দুই কড়ার রাখাল বলে তাদের আমরা সমাজের নিম্নস্তরে রেখে দিই। অথচ তাদের হাতেই বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতির রক্ষাকবচ। বাঘের শিন্নী নাটকে আমি বাংলাদেশের উত্তর পূর্বা লের ভাটির বিলুপ সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিষয়টিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”