নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ মে, ২০১৬
প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগীতার অভিযোগে এই তিনজনকে আটক করা হয়
বিয়ের নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক ও দুই নারীকে আটক করে র্যাব-৯। উদ্ধার করা হয় সেই কিশোরীকে। সোমবার বিকেলে সিলেটের মেজরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও উদ্ধার করা হয়।
রাতে সাড়ে ১০ টায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই-মেইলে এ অভিযানসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। র্যাব-৯ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া শাখার প্রধান মেজর এস এ এম ফখরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এই সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করে দেয়া হয় উদ্ধারকৃত 'ধর্ষিতার' নাম ও ছবি।
তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আক্রান্তের ছবি প্রকাশ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন।
তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেউ আক্রান্ত নারী বা শিশুর ছবি প্রকাশ বা প্রচার করলে সেটা আইনের লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন : বিয়ের নাটক সাজিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, র্যাবের হাতে আটক ৩
এ র্যাব-৯এর অধিনায়ক মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ভুলবশত অধস্তনরা এই ছবিটি মিডিয়ার ই-মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছে।
তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভিকটিমির ছবিটি না ছাপানোর জন্য সব মিডিয়ার কাছে এখনই আমরা বার্তা পাঠাবো।
এর কিছুক্ষণ পরই সংবাদবিজ্ঞপ্তিটির প্রেরক র্যাব-৯এর অপারেশন ইনচার্জ মেজর ফখরুল ইসলাম খান, মোবাইল ফোনে তাদের প্রেরিত এই সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। সংশোধন বিজ্ঞপ্তি ই-মেইলে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
পরে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আক্রান্ত কিশোরীর ছবি ও ঠিকানা বাদ দিয়ে সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় র্যাব।
র্যাব-৯ এর সংবাদবিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, নির্যাতিত কিশোরী (১৫) প্রায় দুই বছর আগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থেকে জীবিকার প্রয়োজনে গৃহকর্মী হিসেবে সিলেটে কাজ করতে আসে। ইসলামপুরে এক বাসায় কাজ করার সময় নুরুন্নাহারের তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তার সাথেই কলোনিতে গত ৩/৪ মাস ধরে ভাড়া ঘরে বসবাস করছিল। মামুন সেখানে কিশোরীকে দেখতে পেয়ে রহিমা বেগম ও নুরুন্নাহারের সহযোগিতায় বিয়ের সাজানো নাটক করে। কোন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন না মেনে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে তার সম্মতির বিরুদ্ধে মামুনের সাথে সাজানো বিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় একজন ভুয়া মৌলভী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর দুইদিন মামুন ও ওই কিশোরীকে কলোনির একই ঘরে থাকতে বাধ্য করে কথিত খালা নুরুন্নাহার ও রহিমা বেগম । ২৯ মে রাতে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
র্যাব অভিযান চালিয়ে কথিত বর মামুন, তার সহযোগী মোছা. নূরুন্নাহার ও মোছা. রহিমা বেগমকে আটক করে। তাদের থানায়ও সোপর্দ করা হয়।