নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ জুন, ২০১৬
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মণির বিরুদ্ধে বুধবার (০১ জুন) দুপুরে এক কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে ৬ মাস আগে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার ৬ মাস পর ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় মামলার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তোলাপাড় চলছে।
মামলা সূত্র জানায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মণি আগের একটি মামলার আপোষ-নিষ্পত্তির সূত্র ধরে গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের গৃহবধূ কমলা বেগম বাড়িতে যান। জামায়াতের লোকজন রাস্তায় পেলে তাকে মেরে ফেলবে জানিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান মণি গৃহবধূর বাড়িতে রাত্রি যাপনের প্রস্তাব দেন। রাতে তিনি গৃহবধূর কলেজপড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় গৃহবধূ স্থানীয়ভাবে বিচারপ্রার্থী হলেও একজন অন্যজনের কাছে যাওয়ার কথা বলে সময় ক্ষেপণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে ওই মহিলা তার মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মণির বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-০১) দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনার ৬ মাস পর কথিত এ ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনার এ মামলাটি দায়ের পূর্বে গত (২৩ মে) ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনির বাসায় জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলির দুই দেবর ও প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মুমিত আসুকের ভাই এমএ মুজিব মাহবুব ও হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মুঈদ ফারুকের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মণি জানান, যে মহিলা থানায় মামলা করেছেন তাকে কিংবা তার মেয়েকে তিনি চিনেন না। একটি প্রভাবশালী চক্র তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। গত কয়েকদিন আগে তার বাসায় হামলা চালিয়েছে। এরাই এ মহিলাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছে।
জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হামিদুর রহমান সিদ্দিকী পিপিএম (৩ জুন) শুক্রবার বিকেলে জানান, প্রায় ৬ মাস আগের একটি ঘটনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মণির বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক গৃহবধূ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।