Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটেও এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ জুন, ২০১৬

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সফরকালে সিলেটেও বেড়াতে এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী। মূলত সিলেট বেড়াতে আসেন আলী। এসময় তাকে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর নামেই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের পাশ্ববর্তী জিমনেসিয়াম হলের নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলীর জিমনেসিয়াম।

সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসেন। সপ্তাহব্যাপী এই সফরে সঙ্গী ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ওভেরোনিকা পোরশে, মেয়ে লায়লা আলী, ভাই, বাবা ও মা।

১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি সিলেটে বেড়াতে আসেন। মূলত চা বাগান দেখতেই সিলেট আসার আলীর।

সিলেটের একাধিক ক্রীড়া সংগঠকদের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

সেই সময়ের তরুণ ক্রিকেটার বর্তমান সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম মোহাম্মদ আলীর সিলেট সফরের স্মৃতি উল্লেখ করে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যতদূর মনে পড়ে মোহাম্মদ আলী ১৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট এসেছিলেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফয়জুল্লাহর উদ্যোগে সিলেট আসেন আলী।

এরপর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে গলফ ক্লাবে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনায় প্রচুর জনসমাগম হয়েছিলো।

সেলিম বলেন, মোহাম্মদ আলী সিলেট আসলেও সিলেট শহরে প্রবেশ করেননি। চা বাগান ঘুরে ও গলফ ক্লাবের সংবর্ধণা শেষে বিমানযোগে আবার ঢাকা ফিরে গিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মোহাম্মদ আলী সিলেট থেকে চলে যাওয়ার পর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের পাশেই একটি জিমনেসিয়াম হল নির্মান করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফয়জুল্লাহ আমাদের সাথে আলোচনা করে এই হলের নামকরণ করেন 'মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়াম হল'।

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে, সেসময় আমি ছোট ছিলাম। তারঁ সফরের স্মৃতি আমার মনে নেই। তবে আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন প্রকাশনায় মোহাম্মদ আলীর সিলেট সফর ও সংবর্ধণার ছবি ব্যবহার করি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফোনিক্স এরিনা হাসপাতালে মারা গেছেন মোহাম্মদ আলী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়োছল ৭৪ বছর।

বাংলাদেশ সফরকালে আলীকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় তাকে। রাষ্ট্রপতি জিয়া বিশ্বখ্যাত বক্সার আলীর হাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের সনদপত্র ও পাসপোর্ট তুলে দেন ।

বাংলাদেশে নাগরিকত্ব পেয়ে আলী বলেন, কখনো জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া হলে বাংলাদেশ হবে তার থাকার জায়গা।

আলীর সম্মানে তৎকালীন ঢাকা (বর্তমান বঙ্গবন্ধু) স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী মুষ্টিযুদ্ধের আয়োজন করা হয়। এতে  ১২ বছর বয়সী বাংলাদেশী বালক মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন সর্বকালের সেরা আলী।

বাংলাদেশ সফরকালে আলী সুন্দরবন, সিলেট, রাঙামাটি ও কক্সবাজার ভ্রমণ করেন আলী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.