Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় প্রকাশ্যে চলছে পাহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব

তপন কুমার দাস, বড়লেখা |  ০৫ জুন, ২০১৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অবাধে চলছে পাহাড়-টিলা কাটা। পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ না থাকায় ‘পাহাড়-টিলা খেকোদের’ আগ্রাসন বাড়ছে। এই অপকর্ম রীতিমতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ব্যক্তিদের চোখের সামনেই ধ্বংস করা হচ্ছে পাহাড় টিলা।

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবাধে পাহাড়-টিলা কাটা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব। তাই রীতিমতো পাহাড়-টিলা কাটার উৎসব চলছে সর্বত্র। এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

এতে করে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বনাঞ্চল। ফলে বন্যপ্রাণীরা হারাচ্ছে আবাসস্থল। যার কারণে অনেক সময় বাঘ, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে এবং প্রাণ হারায়। অতিবর্ষণে ভূমি ধসে ঘটছে হতাহতের ঘটনাও।

সংশ্লিস্টদের অভিমত, প্রতিবছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস আসলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ঘণ্টার শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা ছাড়া পরিবেশ রক্ষাসংক্রান্ত আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার সৃষ্টি হয়নি।

বড়লেখা উপজেলার পাহাড়ি এলাকা সদর ইউনিয়নের ডিমাই, কেছরিগুল, গঙ্গারজল, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর, হাকায়িতি, পূর্ব হাতলিয়া, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বোবারথল, মোহাম্মদনগর, ছোটলেখা, ঘোলসা, চন্ডিনগর, মুড়াউল, অফিস বাজার, উত্তর শাহবাজপুর ইউপির বড়-আইল, নান্দুয়া, পূর্ব বানীকোনা, শ্রীদরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে পাহাড় টিলা কাটা হচ্ছে। এসব পাহাড়-টিলা ধ্বংস করা হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।

পাহাড়-টিলার মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় শাতাধিক ট্রাক্টর। এদের অধিকাংশেরই কাগজপত্র বিহীন। ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি বহন করায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও উপজেলা সদরের শহরের প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

    সরেজমিন বৃহস্পতিবার (২ জুন) উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের নান্দুয়া এলাকায় গেলে সদ্য কেটে নেওয়া পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার বাসিন্দা বশির আলীর ছেলে কমর উদ্দিন পাহাড়ের মাটি কাটাচ্ছেন। একই ইউনিয়নের বাণীকোনা গ্রামের বাসিন্দা আং নূরের বাড়ি থেকে পাহাড় কেটে মাটি নেওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে।

এদিন বিকেলে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়লেখা-শাহবাজপুর সিঅ্যান্ডবি সড়কের পূর্ব পাশের চন্ডিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া ফসলি জমি পাহাড়ি টিলার মাটি দিয়ে ভরাট করতে দেখা গেছে। মাটি ভরাটের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বললে জানা যায়, জমির মালিক সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রবাসী লালা মিয়া মাটি ভরাট করাচ্ছেন।

মাটি কেটে ভারাটের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্যার ছেলে আব্দুস শুক্কুর বলেন, ‘আমরা তো মজুর মানুষ। মাটিতো অনেক জায়গায় মাটি কাটা চলের। পাহাড়ি-টিলার মাটি কেটে ফসলি জমি ভরাটের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমার জানা নেই।’

সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল গ্রামের আমির আলী তার দখলীয় (খাস) পাহাড়ি টিলা থেকে অব্যাহত পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। শনিবার (৪ জুন) স্থানীয় লোকজন  মাটি বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক করে মাটি কাটতে নিষেধ করেন।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পাহাড় টিলা কাটার বিষয়ে ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরে ১০টি মামলা প্রেরণ করা হয়েছে। যথারীতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাহাড়-টিলা কাটা প্রতিরোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তবে পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে প্রশাসনকে সহযোগীতাসহ জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনামূলক মিটিং করা হয়েছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.