হামিদুর রহমান, মাধবপুর | ০৫ জুন, ২০১৬
“আমরা প্রকৃতিকে বাঁচাবো, আগামী প্রজন্মের জন্য”এ শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রায় এক যুগ আগে নিসর্গ নাম দিয়ে ধ্বংস হয়ে পড়া সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে রক্ষার জন্য বিদেশী অর্থে নেয়া হয় নানা পদক্ষেপ। বনের আশপাশ এলাকার জনপ্রতিনিধি, কাঠুরিয়া ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকদের নিয়ে গঠন করা হয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি। বনের জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য সাতছড়ি বনের কিছু অংশকে ঘোষনা করা হয় অভয়ারণ্য।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করার জন্য এখানে মোটা অংকের টাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হয়। কিন্তু বনের উপর মানুষের অত্যাচার থেমে নেই। দিন যত যাচ্ছে বনের তত বৃক্ষশূন্য হয়ে বনের মধ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন জীবজন্তু পোকামাকড় বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
সহব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের কিছুদিন যাওয়ার পর এর কার্যক্রমে কিছুটা গতি এলেও গত কয়েক বছরে এর কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। সহব্যবস্থাপনা কমিটির কিছু লোক বন থেকে গাছ পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বন কর্তৃপক্ষ মামলাও করেছে। এর পরেও বন থেকে বৃক্ষরাজি পাচার, ধ্বংস থেমে নেই। প্রতিদিন ভোরে সাতছড়ি বনে জ্বালানী কাঠ, ও গাছ কর্তনের জন্য শতশত শ্রমিক নির্ভয়ে প্রবেশ করছে।
অভিযোগ উঠেছে সাতছড়ি বনরক্ষির কতিপয় লোকদের টাকা দিয়ে শ্রমিকরা বনে প্রবেশ করে সেগুন বাগান থেকে ছোট ছোট গাছ কেটে বস্তায় ভরে পাচার করছে। সীমান্ত ঘেষা গহিন সেগুন বাগানে গাছ কর্তনের ফলে সেগুন বাগানটি কিছু দিনের মধ্যেই একটি ব্যর্থ বাগানে পরিণত হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাহাড়ী শ্রমিকরা বন রক্ষিদের বাসা বাড়ি ও নার্সারীতে কাজ করার বিনিময়ে বন থেকে মূল্যবান গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। প্রতিদিন ট্রাক্টর, ট্রলি, ও ভ্যান দিয়ে পাচার হচ্ছে।
বনকে রক্ষার জন্য সাতছড়ি ও তেলমাছড়া এলাকায় স্থানীয় লোকদের নিয়ে বাপার বাগান করার পর বনে হলেও শত শত পাহাড়ী শ্রমিক নির্বিচারে এগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানান, বনজ সম্পদ রক্ষায় বনরক্ষি ও উপকারভোগীরা কাজ করে যাচ্ছে। কোনো অনিয়ম ও গাছ পাচারের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।