নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ জুন, ২০১৬
প্রকৃত সেবায়েত ছাড়া তারাপুর চা বাগানে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ যুগলটিলা ইস্কন মন্দির থেকে কারো কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে জানিয়েছেন ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার আগে জেলা প্রশাসক যেভাবে বিগ্রহ স্থানান্তর করতে চাচ্ছেন তা কোনো ভাবে সম্ভব নয়। সেটা করতে গেলে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
সোমবার নগরীর যুগলটিলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেটে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এমন দাবি জানান।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন- জেলা প্রশাসক যুগলটিলা থেকে সোমবার বিগ্রহ স্থানান্তর করা হবে বলে নোটিশ দেন। কিন্ত সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রকৃত সেবায়েত কে তা নির্ধারণের আবেদন করে চৈতন্য কালচারাল সোসাইটি। আবেদন শুনানীর আগে জেলা প্রশাসকের এমন নোটিশ পেয়ে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করে। নেতৃবৃন্দ আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর প্রকৃত সেবায়েত যে হবে তার কাছে বিগ্রহ হস্তান্তরের মাধ্যমে চা-বাগানের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের দাবি জানান।
ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন- বিয়ানীবাজার শ্রীবাস অঙ্গনের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ সিদ্ধ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, হবিগঞ্জ ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ ঔদার্য গৌর দাস ব্রহ্মচারী, ইস্কন কুলাউড়ার অধ্যক্ষ শ্রী রত্নেশ্বর গৌর ব্রহ্মচারী, ইস্কন সিলেটের সম্পাদক ভাগবত করুণা দাস ব্রহ্মচারী, সহ-সম্পাদক পাণ্ডব গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, বুদ্ধি গৌর দাস, পরমেশ্বর কৃষ্ণ দাস, তমাল প্রিয় গৌর দাস, রমনা কৃষ্ণ দাস, মধুর মুরলী দাস, দামোধর লিলা দাস প্রমুখ।
উল্লেখ্য, পঙ্কজ গুপ্ত যুগলটিলা আখড়ার বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ইসকন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে রাধামাধব বিগ্রহ নিতে না-পারায় জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। জেলা প্রশাসন সোমবার (৬ জুন) বিকেল ৫টায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিগ্রহ নেয়ার জন্য সিলেট ইসকনের প্রধানকে একটি পত্র দেন।
এরআগে গত ১৫ মে ২৫ বছর পর শিল্পপতি রাগীব আলীর দখল থেকে দেবোত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানটি উদ্ধার করা হয়।