হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৭ জুন, ২০১৬
হবিগঞ্জে নির্বাচনে জয়ী এবং পরাজিত প্রার্থীর লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে অংশ নিয়েছে ১২টি গ্রামের মানুষ। এতে পুলিশসহ অর্ধশত লোক আহত হয়। এর মাঝে দুইজনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রায় দুইঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পইল নতুন বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার পইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পইল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মইনুল হক আরিফের সাথে আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাহেব আলী। সোমবার সকালে আরিফের পক্ষের মুরুব্বী আম্বর আলী স্থানীয় নতুন বাজারে গেলে সাহেব আলীর পক্ষের লোকজন তার থাকে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা আম্বর আলীকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আরিফের পক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করতে গেলে সাহেব আলীর লোকজন হামলা চালায়। এ সময় দু’পক্ষের মাঝে ঝগড়া বাঁধে।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আরিফের পক্ষে অবস্থান নেয় পইল, লামা পইল, দেবপাড়া, নাজিরপুর, আটঘরিয়া, ছয়ঘরিয়া, আছিপুর, সুলতানশী, আউশপাড়া ও শরীফপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন। অপরদিকে সাহেব আলীর পক্ষে পূর্ব পইল ও পশ্চিম পইলসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোক অবস্থান নেয়।
এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। একপক্ষ আরেক পক্ষের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে প্রথমে ব্যর্থ হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে প্রায় দুইঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মাঝে সোহাগ ও রাজিবকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির জানান, সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ফের সংঘর্ষের আশংকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।