উত্তম কাব্য | ০৭ জুন, ২০১৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাসের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া বইছে তাঁর কর্মস্থল দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্থানীয় এলাকাবাসীও প্রিয় এই শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকাহত।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর মাদানীবাগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীসহ নিহত হন সুমিতা দাস।
দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে সুমিতা দাসের মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় তাঁর কর্মস্থল দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের মহালক্ষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এ সময় শতাধিক এলাকাবাসীর ঢল নামে স্কুল প্রাঙ্গণ ও রাস্তায়। এলাকাবাসী, শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী সবাই ছুটে আসেন তাদের প্রিয় ম্যাডামকে এক নজর দেখতে।
স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা শামসুননাহার বলেন, স্কুলের প্রিয় মুখ ছিনলন সুমিতা ম্যাম। তাঁর এই রকম চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।
মহালক্ষী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সদস্য শাহীন রানা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে পুরো স্কুল আজ শোকাহত। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।
স্কুল শিক্ষিকা পূর্ণিমা দেব বলেন, মহালক্ষী স্কুলের আজকের এই উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশী অবদান প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা ম্যাডামের। তাঁর চলে যাওয়া মানে স্কুলটা ভেঙে পড়া।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র বিপ্রকান্তি দাস ও রূপম ঘোষ বলেন, আমার প্রিয় ম্যাডাম সুমিতা ম্যাডাম। তিনি সবাইকে খুব আদর করতেন।
মহালক্ষী স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী বৃষ্টি পাল বলেন, আমরা ম্যাডামকে বেশী দিন স্কুলে পাইনি। উনি খুব সুন্দর ক্লাস নিতেন। উনাকে খুব মিস করব।
মিঠুন দাস পাপ্পু বলে, আমার স্কুল জীবনের প্রিয় ম্যাম ছিলেন তিনি। তিনি এই স্কুলে আসার পর থেকে স্কুলের ফলাফল অনেক ভাল হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুমিতা দাস ২০০৩ সাল থেকে মহালক্ষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি সুনামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর আলুরতল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম (শাহী ঈদগাহ) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিন সুরমার মহালক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় তাদের মেয়ে অরুনিমা রায় স্নেহাও (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।