নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ জুন, ২০১৬
এবার হবিগঞ্জ থেকে শুল্কফাঁকি দিয়ে চালানো বিলাসবহুল একটি গাড়ি উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মিৎসুবিশি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল এই গাড়িটি কারনেট সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনা হয়েছিলো। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা এই গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন না করেই চালানো হচ্ছিলো।
গত ২৪ এপ্রিল এই গাড়িটি উদ্ধারের জন্য হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার লোগাঁও গ্রামে অভিযান চালানো হয়েছিলো। সে সময় গাড়িটি পাওয়া না গেলেও প্রায় দেড়মাস পর হবিগঞ্জ শহর থেকে বিলাসবহুল এই গাড়িটি উদ্ধার করা হলো।
মঙ্গলবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের জেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে এ গাড়িটি উদ্ধার করেন শুল্ক গােয়েন্দারা। তবে গাড়ির মালিক বা চালককে পাওয়া যায়নি।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এই গাড়ির মালিক মো. ফয়েজ আমিন রাসেল নামের এক ব্যক্তি। যিনি নবীগঞ্জ এলাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ২৪ এপ্রিল গাড়িটি উদ্ধারে ফয়েজ আমিন রাসেলের বাড়ি ও গ্যারেজেই তল্লাশি চালানো হয়েছিলো।
শুল্ক গোয়েয়ন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন মিয়াজী জানান, মিৎসুবিশি ব্যান্ডের রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়িটিতে ঢাকা মেট্রো ম-০০-০৫০১ নম্বরেপ্লট ও এলএনবি অটোমোবাইল গ্যারেজের প্লেট লাগানো ছিলো। গাড়িটির মডেল TK-AB2-EN280
তিনি জানান, সিলেট কাস্টমস ও কমিশনার ড. মো. নুরুজ্জামান ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের সহোযগীতায় গাড়িটি উদ্ধারের পর বুধবার সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা অফিসে নিয়ে আসা হয়।
তিনি জানান, শুল্কফাঁকি দিয়ে গাড়িটি কারনেট সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনা হয়। পরে নির্দিষ্ট সময়ে তা ফেরত নেওয়া হয়নি। পরে রেজিস্ট্রেশন না করেই অবৈধভাবে দেশে গাড়িটি চালানো হচ্ছিলো।
আরও পড়ুন : শুল্কফাঁকির কোটি টাকার গাড়ি উদ্ধারে নবীগঞ্জে রাসেলের গ্যারেজে তল্লাশী
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, গত ২৪ এপ্রিল এই গাড়িটি উদ্ধারের জন্য হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার লোগাঁও গ্রামে ফয়েজ আমিন রাসেলের বাড়িতে এই গাড়ি উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গাড়িটির মালিক উপযুক্ত কাগজপত্র নিয়ে আসলে ও শুল্ক প্রদান করলে তাকে গাড়িটি ফিরিয়ে দেয়া হবে।
মঈনুল খান বলেন, শুল্কফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ি উদ্ধারে সারাদেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় এসব অবৈধ গাড়ি ফিরিয়ে দিলে তার শুল্ক মওকুফ করা হবে। নতুবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ফয়েজ আমিন রাসেল সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরডটকম'র কাছে দাবি করেন, উদ্ধারকৃত গাড়িটি তাঁর নয়।
জানা যায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সিলেট চষে বেড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য থেকে আনা শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। মারসিডিজ, বিএমডাব্লিউ, জাগোয়ার থেকে শুরু করে বিশ্বের নামীদামী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব গাড়ির প্রতিটির নূন্যতম মূল্য কোটি টাকা। একই নাম্বার নিয়েও একাধিক গাড়ি চলছে নগরীতে।
কারনেট সুবিধায় দেশে প্রবেশ করা এসব দামি গাড়ি বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে শুল্কফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশেই থেকে যাচ্ছে।
এতোদিন শুল্কফাঁকি দিয়ে চলা এসব গাড়ি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সিলেট দাপিয়ে বেড়ালেও সম্প্রতি এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দারা।