Sylhet Today 24 PRINT

ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের বর্ধিত বেতন প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ জুন, ২০১৬

ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজে দীর্ঘদিন বেতন আটকে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বর্ধিত বেতন বহাল রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ নগরীর ধোপাদিঘির পূর্বপারস্থ হাফিজ কমপ্লেক্সে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এ সময় মন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. এ.কে আব্দুল মোমেন, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, আওয়মীলীগ নেতা অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবজাদ হোসেন আমজদ, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুখলিছুর রহমান কামরান, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, অভিভাবকদের পক্ষে শাখাওয়াত আলী শাহী, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রকিব বাবলু, কুমার গণেশ পাল, সফিকুল ইসলাম, নিখিল দে, আজিজুর রহমান, শামীম আহমদ সুমন, শফিক খান প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজে প্রি-নার্সারী হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৫ শত ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করছে। প্রতিটি ক্লাশে ৪ থেকে ৫টি শাখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বিগত ২০১৬ইং সনে অযৌক্তিকভাবে সেশন ফি ও জানুয়ারী মাসের বেতন বর্ধিত করেন। যা ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক অনেক কষ্টে প্রদান করেছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ/ অধ্যক্ষ মহোদয় ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকদের কোন প্রকার অবগত না করিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়া অযৌক্তিকভাবে ২০১৬ সনের জানুয়ারী মাস থেকে প্রি-নাসারী ভর্তি ফি- ৯ হাজার ৭ শত ৭৫ টাকা এবং মাসিক বেতন বাড়িয়ে ১ হাজার ৫ শত টাকা করে; কিন্তু বিগত বছরে প্রি-নার্সারীর মাসিক বেতন ছিল ৮ শত টাকা। তদ্রুপ প্রতিটি শ্রেণিতে অযৌক্তিকভাবে বেতন বৃদ্ধি করে জানুয়ারী ২০১৬ইং সনে নোটিশ প্রদান করেন।

 উক্ত নোটিশের প্রেক্ষিতে অভিভাবকগণ জানুয়ারী ২০১৬ইং সনের মাসিক বেতন সহ ভর্তি ফি প্রদান পূর্বক প্রাইম ব্যাংকে সুবিদবাজার শাখায় জমা দিয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শেষ করেন। ইতিমধ্যে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ২০১৬ ইংরেজী মাস হতে মাসিক বেতন নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন অভিভাবকগণ অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বেতন নেয়া যাবে না। এমতাবস্থায় অভিভাবকগণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত বিগত বছরের ন্যায় বর্তমান ২০১৬ইং সালের শিক্ষার্থীদের বেতন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে- আগামী জুলাই মাসে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষাকে ইস্যু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোন না আসলেও শ্রেণি শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বেতন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন ও বেতন পরিশোধ করে বেতন রসিদ শ্রেণি শিক্ষকের নিকট জমা দেয়া জন্য এবং বলেন বেতন পরিশোধ না করলে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। যা শিষ্টচার বহির্ভূত এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি সঞ্চার করছে। এছাড়াও অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হোসনে আরা যোগদান করার পর হতে অত্র প্রতিষ্ঠানটি ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং তার অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে গভর্নিং বডির অনেক  সদস্যগণের সাথে বার বার ঝগড়া-ঝাটি সহ দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ অত্র প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের জানা নেই বা সরকারী কোন প্রতিষ্ঠান দ্বারা অডিটও করানো হয়নি। স্মারকলিপিতে গত বছরের ন্যায় বেতন গ্রহণ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ধৈর্য্য সহকারে অভিভাবকবৃন্দের বক্তব্য শুনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.