নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ জুন, ২০১৬
রং, আটা, ধানের তুষ (কুড়া) মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গুড়া মসলা। চিড়া-মুড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাসয়নিক। তাও এই নগরীতে। রোববার নগরীর মশলা ও মুড়ি কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে খাদ্যের নামে বিষ তৈরির এই প্রক্রিয়া।
জেলা প্রশাসনের সহেযাগীতায় সিলেট নগরীর নবাব রোড় ও শিবগঞ্জ এলাকায় এ ভেজাল বিরোধী অভিযান চালায় র্যাব-৯।
রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী ও র্যাব-৯ এর উপ পরিচালক (গণমাধ্যম) ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদলাত এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে।
জানা যায়, সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ ৮৫ বৈশাখী বাসাতে দীর্ঘদিন থেকে করুণা ফুড নামের একটি প্রতিষ্ঠান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে চিড়া ও মুড়ি তৈরী করে আসছে। এমনকি তাদের কারখানাও অপরিচ্ছন্ন ছিলো। এ কারণে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই প্রতিষ্টানের কর্তৃপক্ষ প্রবীর চন্দ্র পালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নগরীর নবাব রোড় এলাকাস্থ বেবী গুড়া মশলা নামের একটি প্রতিষ্ঠান রং, ধানের তুষ (কুড়া), আটা মিশিয়ে হলুদ, মরিচ তৈরী করার সময় হাতে নাতে তাদেরকে ধরে ফেলে র্যাব। এ প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী দারা মিয়াকে না পেয়ে র্যাব কর্মচারি খায়রুল ইসলামকে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় বেবী গুড়া মশলাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানা আদায় করতে পারেনি র্যাব। জরিমানা না পাওয়ায় কর্মচারিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিনাশ্রমে ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীর প্রতিটি মশলার কারাখানায় ভেজাল রয়েছে। ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উদ্ধারকৃত ভেজাল মশলা এবং রং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গাভীয়ার খালে ফেলে নষ্ট করা হয়।