Sylhet Today 24 PRINT

জোড়া খুনের পর পুরুষশূন্য মাধবপুরের খড়কি গ্রাম

নিহত ফারুকের পরিবারে আহাজারি

হামিদুর রহমান, মাধবপুর |  ১৩ জুন, ২০১৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পরাজিত ও বিজয়ী মেম্বার পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে ২ জন নিহতের ঘটনায় গা ঢাকা দিয়েছে খড়কি গ্রামের পুরুষরা। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বিজয়ী মেম্বার মুনায়েম খান ও পরাজিত মেম্বার আব্দুল হাইয়ের লোকজন শুক্রবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে প্রায় ২০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক মিয়া কে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে ফারুক মিয়া চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজানা সৃষ্টি হয়।

পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের লোকজন জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন শনিবার রাতে তাদের লোকজনদের উপর হামলা করে। এতে মিরাশী বেগম (৯৫) নিহত হয়।পুলিশ রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহত মিরাশ বানু ওই গ্রামের মৃত লতিফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুল হাইয়ের বোন।

এ ঘটনার পর থেকে খড়কি গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং রোববার বিকেলে পুলিশ সুপার জয় দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। এর আগে শুক্রবার সকালে খড়কি গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ফারুক মিয়া শনিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। জোড়া খুন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি।।এ দুটি খুনের পর থেকে খড়কি গ্রাম পুরুষশূন্য রয়েছে। স্থানীয় দোকাপাট বন্ধ রয়েছে। লুটপাটের আশংকায় বাড়িঘর থেকে গরু ছাগল সহ অন্যান্য মালামাল আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে সরিয়ে নিয়েছে গ্রামবাসি।

গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযোজিত থাকা মাধবপুর থানা উপ পরিদর্শক (এসআই) দয়াল হরি ভৌমিক জানান, শনিবার সকাল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এই গ্রামে শান্তিশৃঙ্গলা রক্ষার্থে  পুলিশ দায়িত্বরত ছিল। তাদের দায়িত্বের সময় ওই গ্রামে কোনো দাঙ্গা হাঙ্গামার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিহত ফারুক মিয়ার দাফন শনিবার ইফতারের পরে সম্পন্ন হয়।  ওই গ্রামে একজন বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে পুলিশ নিয়েছে। মিরাশ বানুর দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলে ১০/১৫ বছর আগেই মারা গেছে। মেয়ে মালেকা  পাশ্ববর্তী গ্রাম বেলঘর গ্রামে স্বামির বাড়িতে থাকতেন। মাঝেমধ্যে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী খড়কি গ্রামে আব্দুল হাইয়ের বাড়িতেও থাকতেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ফারুকের পরিবারে আহাজারি : প্রিয় সন্তান ফারুককে হারিয়ে নুরজাহান বেগম বিলাপ করে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। অবুঝ ৪ শিশু সন্তান মারুফ(১০), নারগিস(৯),রাবেয়া (৮) ,মাশুক (৬) কে নিয়ে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা বেগম  কান্না থামছে না কিছুতেই।

মাধবপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত)কেএম আজমিরুজামান জানান, খড়কি গ্রামে দুটি খুনের ঘটনায় পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে। যারা খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকতাদির হোসেন জানান, দুটি খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। এরপরও পুলিশ তদন্ত করছে। শান্তিশৃঙ্গলা রক্ষায় ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.