Sylhet Today 24 PRINT

কিভাবে আসলো গুলি ভর্তি ব্যাগ, যুক্তরাজ্যের কাছে জানতে চাইবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৩ জুন, ২০১৬

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশ থেকে প্রশ্ন তোলা হলেও হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে কিভাবে শটগানের গুলি নিয়ে যাত্রি বিমানে ওঠলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেট কাস্টমসের কর্মকর্তরা।

সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন প্রশ্ন রাখেন সিলেট ভ্যাট কাস্টমস কমিশনারেট'র কমিশনার ড. নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়টি এনবিআরের পক্ষ থেকে বৃটিশ হাইকমিশনারকে বিভিন্ন মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বৃটিশ সরকারকে জানানো হবে এবং কি করে গুলি ভর্তি ব্যাগ হিথ্রো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে সিলেটে আসলো তা জানতে চাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০ রাউন্ড শর্টগানের গুলিসহ এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে আটক করা হয়। যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট ফিরেন তিনি। যুক্তরাজ্য থেকেই লাগেজ ভর্তি করে গুলিগুলো নিয়ে আসেন আবদুস সবুর নামের ওই প্রবাসী। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামের আবদুস শহীদের ছেলে।

আরও পড়ুন : যুক্তরাজ্য থেকে কিভাবে আসলো গুলি ভর্তি ব্যাগ?

এই গুলি উদ্ধারের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সোমবার সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নুরুজ্জামান জানান, গুলি উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় যাত্রী আবদুস সবুর বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস সিলেটের কমিশনার ড. একে নুরুজ্জামান সাম্প্রতিককালে সিলেটে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সদস্যদের সক্রিয়তায় সোনা, হিরোইন, কারনেট সুবিধায় শুল্ক ফাকি দিয়ে আনা বিলাশবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ দ্রব্য আটকের সফলতা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার রাশেদুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার নিয়ামূল ইসলাম, সিলেট ওসমানী আন্তজার্তিক বিমানবন্দনের সহকারি কমিশনার খায়রুর বাশার, সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা অফিসের সহকারি পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বিকাল পৌণে ৩ টায় বাংলাদেশ বিমানের এক বহিগার্মী যাত্রীর কাছ থেকে ৭৩৬ কার্টুন বাংলাদেশী বেনসন এন্ড হেজেস ও ডারবি ব্রান্ডের সিগারেট আটক করা হয়।

১৭ মার্চ জেদ্দা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে গোলাপগঞ্জের আরজোমন আলী নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। যেগুলোর একত্রে ওজন ৫৮০ গ্রাম। পরে বিষয়টি মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

২৪ এপ্রিল সকালে লন্ডন থেকে আগত যাত্রী মো. লোকমান হোসেনের কাছ থেকে ৪৩২ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়। পরে এটি মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। লোকমানের উপর ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা হয় বিচারাদেশে।

৯ মার্চ পাকিস্তান হতে আসা ৩৮টি কাপড়ের ব্যাগ পরীক্ষা করে ৭ দশসিমক ৯৫ কেজি হিরোইন পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে দায়ের করা মামলা এখনও বিচারাধীন আছে।

২২ মার্চ অনুরুপভাবে পাকিস্তান থেকে আসা একটি পার্সেলে বিশেষভাবে তৈরি ১০টি লেডিস ব্যাগে ২.০৮ কেজি হিরোইন পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে একটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

৬ জুন হবিগঞ্জ থেকে আবগারী ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা কার্নেট সুবিধায় নিয়ে আসা শুল্ক ফঁকি দিয়ে চালানো একটি গাড়ি আটক করেন। গাড়িটি হচ্ছে ২০০৭ সালের মিতসুবিসি শোগার্ন মডেলের জীপ।

১০ এপ্রিল সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ বিএম টাওয়ারের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের মালিকানাধীন দুই কোটি টাকা মূল্যের ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’ গাড়িটি (ঢাকা-৬১৪/ও) আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের টিম।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেট এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট বিভাগ কর্তৃক ১ হাজার ৩শ’ ৩৩ কার্টন সিগারেট, প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ এবং ১২২ বোতল মদ আটক করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.