নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ জুন, ২০১৬
সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি হত্যা মামলায় ছোট ভাইয়ের পরিবর্তে দুই বছরের অধিক কারাবন্দী থাকা ‘বড় ভাই’ নুরুল ইসলাম (৬০) অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান। এসময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে গত ৯ জুন হাইকোর্টে বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। সিলেট দায়রা জজ ও জেলা পুলিশের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৬ মাসের জামিন দেয় তাকে।
জানা যায়, সিলেটের বিয়ানীবাজারে আলোচিত দিনার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন নুনু মৌলভী ওরফে নজরুল ইসলাম। তবে পুলিশ নজরুল ইসলামকে বাড়ি না পেয়ে তাঁর বড় ভাই ভাই নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। সেই থেকে তিনি বিনাদোষে কারাবন্দি ছিলেন।
জামিনে মুক্ত হয়ে নুরুল ইসলাম কারাফটকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাসের জন্য আবেদন করবেন বলে জানান।
নুরুল ইসলাম কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর কারাফটকে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারাগারের মূল ফটকে আগে থেকেই অপেক্ষমান থাকা তিন ভাই-বোন, মা-দাদি ও ছেলে নুরুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
নুরুল ইসলামের ছেলে সরোয়ার জাহান সজিব জানান, নির্দোষ হয়েও একমাত্র উপার্জনকারী কারাগারে থাকায় তাদের পরিবার ছিল নানা অভাব-অনটনে। আজ জামিনে বের হলেও আগামীতে তার বাবা বেকসুর খালাস পাবেন এমন আশাবাদ সজিবের।
সিলেট কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে নুরুল ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন, সেই কাগজপত্র বুধবার সিলেট কারাগারে পৌছলে বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামের আব্দুস সালাম ওরফে সেলাইয়া মিয়ার ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র দিনাকে খুন করা হয়। তার গলাকাটা মরদেহ গ্রামের খালের পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে দিনারের বাবা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করেন। এ মামলায় দিনারের প্রাইভেট শিক্ষক নুনু মৌলভীসহ সাতজনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
বিচার শেষে ১৯৯৯ সালে সিলেটের দায়রা আদালত নুনু মৌলভী, আব্দুস জলিল, আব্দুর রহমান ওরফে সাদ, আব্দুস শহীদ, এনাম উদ্দিন, খলিলুর ও নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এদের মধ্যে নুনু মৌলভী ও এনাম উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
কিন্তু ২০১৪ সালের ৮ মার্চ পুলিশ নুনু মৌলভীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বড় ভাই নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। সেই থেকে নুরুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।