কামাল হোসেন, তাহিরপুর | ১৭ মার্চ, ২০১৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার তীরে সপ্তাহ ব্যাপী ওরশ ও পর্ণতীর্থ উৎসবকে ঘিরে দুই ধর্মের দুই আধ্যাত্বিক মহা সাধকের মিলন মেলা আজ থেকে শুরু।জানাযায়, শ্রী শ্রী অদ্বৈত্য আর্চা মহাপ্রভুর নবগ্রাম রাজারগাঁও আখড়াবাড়ী সংলগ্ন ২৩ কিলোমিটার দৈঘ্যের সীমান্ত ও রূপের নদী যাদুকাটার তীরবর্তী পর্ণতীর্থধামে প্রায় ৭শ’ ১১ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্নান যাত্রা ও ৩শ’ ৬০ আউলিয়া হয়রত শাহ্জালাল (রঃ)’র অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ আরেফিন (রঃ)’র মহা পবিত্র ওরশ আজ ১৮ই র্মাচ ৩ চৈত্র বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে ২০ই র্মাচ ৬ চৈত্র শুক্রবার সন্ধায় শেষ হবে। যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী লাউড়েরগড় সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন হযরত শাহ্ আরেফিন (রঃ)’র আস্তানায় সকালে দোয়া মাহফিলে এনিয়ে উভয় ধর্মের লোকজন বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের প্রাচীন লাউর রাজ্যের হাবেলীর পুরোহিত শ্রী অদ্বৈত্য মহা প্রভুর আখড়ার বাড়ী ও জন্মধাম সংরক্ষণ সংস্কার কার্যনিবাহী কমিঠি সূত্রে জানা গেছে, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ স্নান যাত্রার মুখ্য সময় এবছর ১৮ ই র্মাচ ৩ই চৈত্র বুধবার বিকাল ৪ টা ১১ মিটিন ১৩ সেকেন্ট গতে রাত ৯ টা ১ মিটিন ৪৮ সেকেন্ট পর্যন্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে নির্ধারন করা হয়েছে। এবং এ উপলক্ষে বালুচড়ের বারুনী মেলা বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সন্ধায় সমাপ্ত হবে।
স্থানীয় আখড়া বাড়ী উৎসব কমিটি ও ইস্কন সূত্রে জানাযায়, সপ্তাহব্যাপী উৎসব ও গঙ্গা স্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসব কমিটি ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)’র উদ্যোগে পৃথকভাবে মঙ্গল আরতী, ভজন, লীলা কীর্তন, বৈদিক নাটক, গঙ্গাপূজা, দেশের বেতার, টিভি ও মঞ্চ শিল্পীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান এবং ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অপর দিকে একই সময়ে উপজেলার সুনামগঞ্জ ৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের লাউড়েরগর সীমান্ত ফাড়িঁর মেইন পিলার এলাকায় মেঘালয় গারো-খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে হযরত শাহ্ আরেফিন (রহঃ)’র আস্তানায় ওরশ মোবারক আজ ১৮ই মার্চ সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে ২০ই মার্চ সকালে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হবে।
আওয়ামীলীগ নেতা ও বাদাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও শহ্ আরেফিন মাজার কমিটির সহ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জালাল উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আলম সাব্বির বলেন, ওরশ ও গঙ্গা স্নানযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী উৎসবকে ঘিরে দেশ বিদেশের কমপক্ষে ৪ লক্ষাধিক নারী, পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ বনিতার সমাগম ঘটবে। ইতিমধ্যেই দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কাফেলাধারী পাগল ফকির, ভক্ত ও সাধক, দর্শনার্থীদের সীমান্তবর্থী গ্রাম গুলো ও আখড়া বাড়ীর আশেপাশের গ্রামে সপ্তাহ খানেক পূর্বেই সমবেত হয়েছে। ওরশের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কোরআন লোওয়াত, হালকা জিকির, মোর্শিদি, ভান্ডারী, পল্লীগীতি, লালনগীতি, বাউল সঙ্গীত, জেলার মরমী কবি ও সাধক পুরুষ হাছন রাজা ও বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের লোক সঙ্গীত ও বাউল গানে মাতিয়ে রাখবে ওরশ স্থল।
তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ৭শ’ ৯ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সপ্তাহব্যাপী মিলন মেলাকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রসাশক শেখ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন এমপি, পুলিশ সুপার হারুন আর রশিদ, সুনামগঞ্জ-৮ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল গোলাম মহি উদ্দিন খন্দকার, তাহিরপুর উপজেলা চেয়াম্যান কারুজ্জামন কামরুল সহ তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৭ চেয়াম্যানকে উপদেষ্টা ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে সভাপতি করে পৃথকভাবে আইন শৃংখলা রক্ষা, উৎসব উদযাপন ও মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
দুই ধর্মের দুই আধ্যাত্বিক মহা সাধকের মিলন মেলা উপলক্ষ্যে র্সাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্ততি প্রসঙ্গে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ শহীদুল্লাহ্ ও ওসি তদন্ত মোঃ হানিফ বলেন, আখড়া বাড়ী, পণাতীর্থ ধামে গঙ্গাস্নান, গরকাটি ইস্কন মন্দির, বারুনী মেলা ও ওরস মোবারক আস্তানায় পুলিশ, বিডিআর, আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ৪ টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। দুজন ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে দুই টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি মেটাল ডিটেকটর দ্বারা দেহ, ব্যাগ তল্লাশি সহ ডিএসবি, সদা পোষাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ নজর ধারী এবং ঝুঁকিপুর্ণ সড়কগুলোতে দিবারাত্রী যাতায়াত কারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধে একাদিক পুলিশ, বিজিবি, র্যাবের টহল দল মোতায়েন থাকবে।