Sylhet Today 24 PRINT

পেছনে পুলিশ, সামনে খুন; এলাকায় তোলপাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৩ জুন, ২০১৬

বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর গ্রামের মাহতাব উদ্দিন নামক যুবকের খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের সামনে কীভাবে এমন খুনের ঘটনা ঘটে এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। পুলিশ কেন বাধা দিতে গেলো না, আর কেনইবা পুলিশ খুনিদের রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল এ নিয়ে কানাঘুষা চলছে।

জানা যায়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আলীনগর গ্রামের আব্দুল ফাত্তাহ তালুকদার ও নিহত মাহতাব উদ্দিনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে এ সপ্তাহেও দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বর্তমানে বিরোধকৃত জায়গাটি মাহতাব উদ্দিনের পরিবারের দখলে রয়েছে, যদিও জমিতে তাদের মালিকানার বিষয়টি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আব্দুল ফাত্তাহ তালুকদারের আমেরিকা প্রবাসী হলেও সম্প্রতি নিয়ে দেশে এসেছেন, এবং জায়গাটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাত্তাহ পরিবার ঘটনার দিন সকালে জমিতে হালচাষ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এজন্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুমিত সুমন তালুকদারের সাহায্যে স্থানীয় চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। অন্যদিকে, মাহতাব উদ্দিনের পরিবারও এ জমি নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া ছিল, এবং তারাও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সকাল হতেই মাহতাব কাউকে না জানিয়ে গরু নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এবং সেখানে গরু বেঁধে রেখে ঘাস নিয়ে ফেরার পথে সুমন তালুকদারদের বাড়ির পাশে ঘাস ধৌত করছিলেন।

এদিকে, মাহতাব উদ্দিনকে নিজেদের বাড়ির ঠিক পাশেই ঘাস ধৌত করতে দেখে আব্দুল ফাত্তাহ তালুকদারের ভাতিজা রুবেল তালুকদার সহ অন্যরা তেড়ে আসেন। রুবেল প্রথমেই ধারালো দা দিয়ে মাহতাবকে আঘাত করেন। দা'র কোপে আহত মাহতাব দৌড়ে পালাতে গেলে সুমন সহ অন্যরা লাঠি দিয়ে তাকে ফের আঘাত করলে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর সেখানেও অত্যধিক রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি।

ঘটনার পর পরই মাহতাব উদ্দিনের পরিবারের লোকজন ফাত্তাহ তালুকদারের বাড়ি ঘিরে ফেলে। মাহতাবের চাচাতো ভাই আসাদ সুমনদের বাড়িতে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে তাদের প্রতিরোধে তিনিও আহত হন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মাহতাব উদ্দিনের নিহতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন ফাত্তাহ তালুকদারের বাড়ি ঘিরে ফেলে। আলীনগর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন এ ঘেরাওয়ে নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মামুনুর রশীদ মামুন  দুপুরে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "জমি নিয়ে বিরোধী প্রভাবশালীরা গরিব লোকটিকে মেরে ফেলছে। আমরা খুনিদের তাদের বাড়িতে ঘিরে রেখেছি, পুলিশ আছে, ওসিও এসেছেন"।

ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আলীনগরের বাসিন্দা সোহরাব আলী এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত বলে খুনিদের শাস্তির পাশাপাশি পুলিশেরও শাস্তির দাবি করে বলেন, খুনিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ তাদেরকে দিয়েই নিরীহ লোকটিকে মেরে ফেলেছে।

তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবের আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশ আগে থেকে উপস্থিত ছিল না। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছে।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জাকারিয়া আহমদ ময়না এ প্রসঙ্গে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল কিনা জানি না।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার মামুন আহমদ এ প্রসঙ্গে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে শুনেছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.