নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ | ২১ মার্চ, ২০১৫
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পর মণিপুরিদের কাং, কড়ি খেলা, রশি টানাটানি আর বনদেবীর সন্তোষ্টিতে পূজা অর্চনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল মাঝেরগাঁও উন্মুক্ত মাঠে দিনব্যাপী চলে মৈতৈ মণিপুরী সম্প্রদায়ের মণিপুরি চৈরাউবা কুম্মৈ-৩৪১৩ (মণিপুরি নববর্ষ উদযাপন ৩৪১৩)। শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় উন্মুক্ত স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া ও প্রবীন সমাজসেবী শ্রী হামোম গোপাল সিংহের নেতৃত্বে মণিপুরি ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরিধান করে ও উপকরণ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে মৈতৈ মণিপুরি নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
মাঝেরগাঁও মন্ডপে বেলা ১১টায় মণিপুরি ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণে গ্রাম ভিত্তিক যৌথ অংশগ্রহনে শুরু হয় মণিপুরি জাতীয় “কাং ও রশি টানাটানি খেলা”। পরে গৃহিণীরা বৃদ্ধা ফল, ফুল ভোগ দিয়ে আগরবাতি ও মোমবাতি জালিয়ে নানা আয়োজনে গান গেয়ে বনদেবীর সন্তোষ্টিতে “সারোয় খাঙবা” (বনদেবীর) পূজা করেন। বনদেবী খুশি থাকলে এ বছর তাদের প্রাকৃতিক নিরাপত্তা থাকবে এ বিশ্বাসে বনদেবীর পূজা। বেলা আড়াইটায় মাঝেরগাঁও মন্ডপে মণিপুরি নারী-পুরুষের যৌথ অংশগ্রহনে চলে ঐতিহ্যবাহী “লেকোন শান্নবা” বা কড়ি খেলা।
বিকাল চারটায় উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ছয়টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশ গ্রহনে কবি এ কে শেরামের সভাপতিত্বে মৈতৈ মণিপুরী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে সাতটায় ছেলে-মেয়েদের অংশ গ্রহনে মণিপুরিদের বর্ণাঢ্য লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়।
নবর্বষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া, মণিপুরি প্রবীন সমাজকর্মী শ্রী হামোম গোপাল সিংহ। আয়োজকরা জানান, যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ১৩৯৭ বছর পূর্ব থেকে মৈতৈ মণিপুরী সম্প্রদায় তাদের নববর্ষ উৎসব পালন করছে। এবার ২১ মার্চ নানা আয়োজনে ৩৪১৩ তম মণিপুরি চৈরাউবা কুম্মৈ বা মণিপুরি নববর্ষ ৩৪১৩ উদযান করছেন।