নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুলাই, ২০১৬
সেবা প্রত্যাশী মানুষের ভিড়, এ কক্ষ থেকে ওই কক্ষে ছুটছেন সেবা প্রত্যাশীরা। কাঙ্খিত কর্মকর্তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলেও ব্যস্ততার দোহাই দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। কখনো সেবাপ্রত্যাশীদের অতিরিক্ত চাপে হাপিয়ে উঠছেন কর্মকর্তারা।- বিভিন্ন সরকারী অফিসের এ যেনো প্রতিদিনকার চিত্র।
তবে শনিবার দেখা গেছে পুরোপুরি উল্টো চিত্র। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আছেন। অলস সময় কাটাচ্ছেন। অথচ সেবাপ্রত্যাশীদের তেমন ভিড় নেই। অনেকটা ফাঁকা অফিস। সিলেট নগরীর বিভিন্ন অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেলো আজ।
এমনিতে শুক্র-শনিবার সরকারী ছুটির দিন। আজ শনিবার। তবু আজ খোলা ছিলো সরকারী অফিস-আদালত। খোলা ছিলো ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। সরকারি নির্বাহী আদেশে খোলা ছিল সকল সরকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
আজ (শনিবার) দুপুরে সিলেটের বিভিন্ন অফিস পাড়া ঘুরে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় শতভাগ উপস্থিত, তবে গ্রাহক ও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। সাধারণ কর্মদিবসে একটি অফিসে বা আদালতে সাধারণত যে পরিমাণ ভিড় দেখা যায় হন সেই তুলনায় শনিবার মানুষের উপস্থিতি ছিল এর প্রায় অর্ধেক।
দুপুরে সিলেট বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও সেবাগ্রহীতাদের তেমন ভিড় নেই। অনেকটা ফাঁকা অফিস।
ন্যাশনাল ব্যাংকের জিন্দাবাজার শাখায় গিয়ে দেখা যায় কর্মব্যস্ততার বদলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা পার করছেন অলস সময়। হাতেগোনা কয়েকজন গ্রাহক প্রয়োজনীয় কিছু কাজ সারতে এসেছেন ব্যাংকে।
এ সময় কথা হয় ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক আনিসুল হকের সাথে। তিনি বলেন, “সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় আজ শনিবার ব্যাংক খোলা থাকলেও যে সকল গ্রাহক খোলা থাকার বিষয়টি জানেন তারাই সেবা নিতে এসেছেন। তাছাড়া ঈদ পরবর্তী সময়ে ভিড় এমনিতেই কম হয়, তার উপরে বন্ধের দিনে ব্যাংক খোলা থাকলেও লেনদেন সাধারণ কর্ম দিবসের তুলনায় কম হয়েছে”।
রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সিলেট কর্পোরেট শাখায় গিয়েও দেখা যায় সাধারণ দিনের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা কাউন্টার গুলো। সকালের দিকে গ্রাহকদের উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও দুপুরের দিকে গ্রাহক শূন্য ছিল কাউন্টার।
জানতে চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন ঢালী বলেন, “শনিবার ছুটির দিন, এ বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনের মধ্যেই রয়েছে। সরকারি আদেশে আজ (শনিবার) ব্যাংক খোলা থাকলেও অন্যান্য দিনের মতো ভিড় নেই গ্রাহকের। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শতভাগ উপস্থিতি রয়েছে। তাছাড়া মাসের মাঝামাঝি সময়ে এমনিতেই গ্রাহকদের ভিড় কম থাকে”।
এদিকে সিলেটের আদালত ঘুরে দেখা যায়, কার্যতালিকায় মামলার পরিমাণ কম থাকায় আদালতপাড়াতে ভিড় ছিল না আইনজীবি ও বিচার প্রত্যাশীদের। প্রায় শূণ্য আদালতপাড়ায় আইনের ব্যস্ততায় নয়, বরং খোশগল্পেই সময় কেটেছে আইনজীবিদের।
আদালতের ৫ নং বারে কথা হয় আইনজীবি মো. আমিনুর রশীদের সাথে। তিনি বলেন, “শনিবার সাধারণ ছুটির দিনে আদালতে খোলা থাকায় তেমন ভিড় ছিলো না আদালত চত্ত্বরে। পূর্বনির্ধারিত মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, আইনজীবিরাও অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ব্যস্ত দিন পার করেছেন।
উল্লেখ্য, এ বছর ঈদ-উল-ফিতরে টানা ৯ দিন ছুটি সরকারি কর্মজীবিরা নয় দিনের ছুটি ভোগ করেন। বিশেষ নির্বাহী আদেশে ঈদের বাড়তি ছুটির বদলে শনিবার (১৬ জুন) সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।