Sylhet Today 24 PRINT

অপহরণকারীদের কবল থেকে বেরিয়ে পুলিশের কব্জায় ‘লঙ্গি মিয়া’

শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ |  ১৯ জুলাই, ২০১৬

অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হলেও পুলিশের হাত থেকে ছুটতে পারলেন না লঙ্গি মিয়া নামের হবিগঞ্জের এক ব্যক্তি। কারণ তিনি নিজেও যে ৪ মামলার  গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী। ফলে বাড়ীর যাওয়ার পরিবর্তে তাকে যেতে হয়েছে কারাগারে। এদিকে লুঙ্গি  মিয়া অপহরণ  ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার মূল নায়ক কাশেমকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান জানান, চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে আলমগির হোসেন ওরফে লঙ্গি মিয়াকে গত  রোববার বিকেলে জেলা শহরের ২নং পুল এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে যায়।

রোববার গভীর রাতে তারা লঙ্গি মিয়ার শ্যালক কাজল আহমেদের কাছে মোবাইল ফোনে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে তা দেড় লাখ টাকায় সাব্যস্ত করা হয়। অপহরণকারীরা কামড়াপুর ব্রিজ এলাকায় টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। এদিকে লঙ্গি মিয়ার ভাই মালেক মিয়া বিষয়টি সদর থানায় অবহিত করেন। অপহরণকারীদের কথামতো সোমবার রাতে সেখানে যান অপহৃতের স্বজনসহ সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ। এ সময় টাকা নিতে এলে পুলিশ সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করে। তারা হচ্ছেন উমেদনগর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে নোমান মিয়া, পাথারিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে কাশেম মিয়া, তার ভাই কাউছার মিয়া ও উজ্জ্বল মিয়া।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অপহরণকারী পাথারিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার আরেক ছেলে রাসেল মিয়া পালিয়ে যায়। পরে সে আবারও মোবাইল ফোনে অপহৃত লঙ্গি মিয়াকে ফেরত দেয়ার বিনিময়ে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করে। খবর পেয়ে পুলিশ মোবাইল ফোনের ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে শহরতলীর মির্জাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১২টায় ওই গ্রামের মসজিদের কাছ থেকে লঙ্গি মিয়াকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপহরণকারী রাসেল মিয়া পালিয়ে যায়। রাতেই লঙ্গি মিয়াকে আটককৃতদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় লঙ্গি মিয়া শুধু কাশেম মিয়াকে অপহরণের সাথে জড়িত বলে সনাক্ত করেন। পরে রাতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাশেম ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা না পেয়ে অন্য ৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার উক্ত ঘটনায় অপহৃত আলমগীর হোসেন ওরফে লঙ্গি মিয়া বাদি হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কাশেমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অপহৃত আলমগীর হোসেন ওরফে লঙ্গি মিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। লঙ্গি মিয়া সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে আছে এমন খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.