শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ২০ জুলাই, ২০১৬
হবিগঞ্জের বাহুবলে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছেন বাজারের পাহারাদার। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক গৃহবধূকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার ভোর পৌনে ৬টায় উপজেলার মিরপুর বাজার চৌমুহনার পুলের পাশ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
অপহৃতা স্কুলছাত্রী উপজেলার নতুন বাজার এলাকার শাহজালাল মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শান্তা চক্রবর্তী (১৪)। সে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চিচিরকোট গ্রামের হরিধন চক্রবর্তীর মেয়ে। অপহরণের ঘটনায় আটক গৃহবধূ একই উপজেলার হিমারগাঁও গ্রামের সিদ্দিক আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (২৫)।
পুলিশ জানায়, ফাতেমা বেগম মঙ্গলবার সকালে অপহৃতা শান্তার বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে সে বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু করেন তার স্বজনরা। এক পর্যায়ে রাতে বাহুবল মডেল থানায় শান্তার পিতা হরিধন চক্রবর্তী বাদি হয়ে অপহরণকারী ফাতেমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে বুধবার ভোররাতে শান্তাকে নিয়ে পালানোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে মিরপুর বাজার পৌছলে মিরপুর ব্যকসের পাহারাদার তোতা মিয়ার নজরে পড়লে তাদের আটক করে মিরপুর ব্যকস কার্যালয়ে নিয়ে আসে। পরে মিরপুর ব্যকসের সাধারণ সম্পাদক মো. তারা মিয়া, সহ-সভাপতি আবিদ আলী বুধন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কদর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ মিয়া, প্রচার সম্পাদক রুবেল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক জুনাঈদ মুন্সি উপস্থিত হয়ে বাহুবল মডেল থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুপু কর মিরপুর ব্যকস অফিসে উপস্থিত হয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান।
অপহৃতা শান্তা জানায়, ফাতেমা তাকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। বলে মিরপুরে তার দুলাভাই’র বাসায় ভাল স্যার থাকেন।
আটককৃত ফাতেমা বেগম বলেন, শান্তার পরিবার খুব গরীব বলে তাকে নিয়ে একটি গার্মেন্টেসে চাকরী দিব বলে নিয়ে আসি। গত রাতে মিরপুর বাজারে আমার ভাগ্নিপতি প্রবাসী লিটনের বাড়িতে থেকেছি।
মিরপুর ব্যকসের পাহারাদার তোতা মিয়া সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকাল ৬টার সময় দেখি দুই মেয়ে হেঁটে মিরপুর ডাবল ব্রীজের দিকে যেতে দেখলে আমি তাদের আটকাই। এরপর আমি মেয়ের আত্মীয় স্বজনদের খবর দেই। ঘন্টা খানেক পরে পুলিশ আসে।