Sylhet Today 24 PRINT

৮৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ, অর্ধশতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক পানিবন্দি

সুনামগঞ্জের বন্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২৩ জুলাই, ২০১৬

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। বন্যায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে না পারায় এসব স্কুলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া পানিবন্ধি অবস্থায় রয়েছে অর্ধশতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক। বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এসব ক্লিনিকগুলোর রাস্তা ডুবে যাওয়ায় সেবাদাতা ও সেবাগ্রহিতারা গত কয়েক দিন ধরে বিপাকে রয়েছেন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা জেলায় ২১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। আরো ২০টির মতো ক্লিনিক চালুর পর্যায়ে রয়েছে। বহু আগে এগুলো নির্মিত হলেও কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে বিভিন্ন উপজেলায় ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে বলে জানা গেছে। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় এসব ক্লিনিকে কর্মরত সিএইসসিপি (কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডর)দের প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি ক্লিনিকে ওরস্যালাইনসহ পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা উপকরণ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, হাওর উপজেলার শাল্লা, দিরাই, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সদর উপজেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। তাছাড়া গ্রামীণ রাস্তাগুলো ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়রা কমিউনিটি ক্লিনিকসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সহজে যোগাযোগ করতে পারছে না। ফলে তারা কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এবং হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান।

এ ছাড়াও সদর উপজেলার রঙ্গার চর, মদনপুর, মনোহরপুর, শ্রীপুর, হবতপুর, তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকূল, মোয়াজ্জেমপুর, প-পসহ কয়েকটি উপজেলার অর্ধশতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ক্লিনিকগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না। তাছাড়া রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় রোগিদের মতো সেবাদাতারাও যেতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ২৬ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এখন এসব গ্রামে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। আমি স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ওষুধ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, কিছু কিছু কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। ফলে ঝুকির কারণে সেবাগ্রহিতারা ক্লিনিকে গিয়ে সেবা নিতে ভয় পাচ্ছেন। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এই দুর্যোগ মোকাবেলায় নানা রোগের ওষুধ সরবারহ করে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, বন্যার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সুনামগঞ্জের প্রায় ৮৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। বন্যায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। অনেক স্থানে স্কুল ঘরও পানিতে তলিয়ে গেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.