Sylhet Today 24 PRINT

ড. ছদরুদ্দিনকে সহপাঠী উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর শোক ও স্মৃতি রোমন্থন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৪ জুলাই, ২০১৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে সহপাঠী উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এক শোক বার্তায় ড. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ড. ছদরুদ্দিন একাধারে স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহপাঠী ও বন্ধু ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে এমসি কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একত্রে ছিলাম। তিনি স্কুল জীবন থেকে অত্যন্ত মেধাবি ছিলেন। তিনি স্কুলে আমাদের ক্লাস ক্যাপ্টেনও ছিলেন। সেক্ষেত্রে তিনি খুবই দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।’

‘তাঁর চরিত্র ছিলো- স্কুল পর্যায় থেকে সহপাঠী ও ক্লাসের অন্যান্য দুর্বল ছাত্রদের সামান্য সম্মানীর বিনিময়ে পড়াতে পারদর্শী ছিলেন। তখনই তিনি আমার স্কুলযাত্রী-স্ত্রীর শিক্ষকও ছিলেন।’- বলেন অর্থমন্ত্রী।

কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মজীবনে এসে আমরা স্ব স্ব কর্মে ব্যস্ত থাকায় কিছুদিন কম দেখা-সাক্ষাৎ হতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যখন আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তখনই আমাদের যোগাযোগ আরো বেড়ে যায়।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরীর অবদানের কথা উল্লেখ করে এই সহপাঠী বলেন, ‘সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ভিসি হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি তাঁর প্রশাসনিক নেতৃত্বের দক্ষতা দেখেছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ছদরুদ্দিন চৌধুরীর অবদান ছিলো অনন্য। বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ কাজে তিনি ছিলেন একজন অতন্দ্র প্রহরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা তিনিই নিযুক্ত করেন। এ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে অনুনয়-বিনয় করে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাল মানের শিক্ষক শাবিতে নিয়ে আসেন।’

তিনি বলেন, ‘ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরীর দায়িত্বকালীন সময় শাবিপ্রবির ইতিহাসে ছিলো উজ্জল যুগ। তিনি অবসরে যাওয়ার পরও শিক্ষার উন্নয়নে সকল সময়ই ছিলেন তৎপর। অবসরকালীন সময়ে সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব নেন তিনি। এসময়ই তাঁর আমন্ত্রণে আমি এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরী সারাজীবনই শিক্ষাবিস্তারে নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনির মৃত্যুতে সিলেটসহ সমগ্র জাতি একজন খাটি দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ও বিশেষ করে শিক্ষাজগতের একজন উজ্জল নক্ষত্রকে হারিয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরীর কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান আল্লাহ পাকের কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী সকলের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানান তিনি।

এদিকে, ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঢাকার লালমাটিয়াস্থ মেয়ের বাসায় মরদেহ দেখতে যান অর্থমন্ত্রী। সেখানে কিছুসময় অতিবাহিত করেন এবং পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন ও তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ন্যাশনাল টি কোম্পানির চেয়ারম্যান সাবেক সচিব ড. একে আবদুল মুবিন, জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.