Sylhet Today 24 PRINT

চাঁদনী ঘাটের উপদ্রব অবৈধ পার্কিং

দেবকল্যাণ ধর বাপন |  ৩০ জুলাই, ২০১৬

উন্মুক্ত উদ্যানহীন সিলেট নগরে একটুকু নির্মল বাতাসের জন্য বিকেল হলেই অনেকে ভিড় করেন সুরমা তীরবর্তী চাঁদনিঘাট এলাকায়। নানা বয়সী লোকজন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নদীর তীরে বসে দৈনন্দিন ক্লান্তি দূর করেন।

চাঁদনীঘাট এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পর থেকেই প্রতিদিন বিকেলে এই এলাকায় নাগরিকদের ভিড় লেগে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় বেড়াতে আসা লোকজনের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ ট্রাক পার্কিং। অবৈধভাবে পার্কিংয়ের ফলে নির্মল বাতাসের খোঁজে এসেও ট্রাকের শব্দ আর ধোঁয়ার উৎপাত সহ্য করতে হচ্ছে।

চাঁদনীঘাট এলাকার সার্কিট হাউজের দেয়াল, কীন ব্রিজের নিচ, আলী আমজদের ঘড়িঘর সংলগ্ন এলাকাসহ ও সুরমা নদীর তীর সংলগ্ন ‘বিউটিফিকেশন’ স্পটে গড়ে উঠেছে অবৈধ ট্রাকের স্ট্যান্ড। এতে ম্লান হয়ে পড়েছে এই এলাকার সৌন্দর্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, সার্কিট হাউসের সংলগ্ন রাস্তার দুপাশ দখল করে পার্কিং করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য ট্রাক। প্রায় ৩০ ফুট রাস্তার দুপাশ ও সার্কিট হাউসের দেয়াল ঘেঁষেই দিন-রাত পার্কিং করা থাকে ট্রাকগুলো। এই অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারনে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এই যানজটের নিরসনেও প্রশাসন নীরব।

এদিকে রাস্তার বিপরীত পাশ দখল করে গড়ে ওঠেছে চটপটিওয়ালাদের ভাসমান দোকান। এখানে প্রতিদিন সুরমা নদীর তীরে বিভিন্ন বয়সি মানুষের ভিড় জমে। অবৈধভাবে ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

এ ব্যাপারে ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি দিলু মিয়া সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আমরা অবৈধ ভাবে আছি এ কথা সত্যি, কিন্তু আমরা যাবো কোথায়? বাপ দাদাদের আমল থেকে আমরা এখানে বসে আছি। আর যেহেতু নগরীর অভ্যন্তরে নির্ধারিত কোনো ট্রাক টার্মিনাল নেই, তাই আমরা এখানেই বসি। যেদিন থেকে আমাদের নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল চালু করে দেয়া হবে সেদিন থেকেই আমরা শুধু  সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ট্রাক স্ট্যান্ড না সিলেটের সকল ট্রাক স্ট্যান্ড নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেবো।

চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সামিয়া চৌধুরী বলেন, এমন একটা ঐতিহ্যবাহী সুন্দর স্থানে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও অবৈধ  ট্রাক পুরো এলাকার সুন্দর্য ও ঐতিহ্য নষ্ট করছে। তাই এইসব অবৈধ গাড়ি পার্কিং করার জন্য প্রশাসনকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ নিতে হবে।

সিলেট সার্কিট হাউসের সামনে অবৈধ ভাবে ট্রাক রেখে নিয়মিত স্ট্যান্ড তৈরী করছেন চালকরা। এখানে সিন্ডিকেট করে প্রতিটি ট্রাক থেকে অর্থ আদায় করছেন কিছু অসাধু শ্রমিক নেতারা। কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন নগরীতে কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নেই।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ বলেন, “এক দুবার নয়, অনেকবার অভিযান চালিয়ে ট্রাক উচ্ছেদ করা হলেও এরা আবার ফিরে আসে। মাস তিনেক আগে অভিযান চালালে ট্রাক চালক সমিতি সিলেটের প্রবেশ পথ অবরোধ করে বসে। অপারগ হয়েই তাদের সীমিত আকারে অবস্থানের জন্য দেয়া হয়”।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.