সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ আগস্ট, ২০১৬
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল হোসাইন চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সুরমা সাহেব বাড়ির ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোকতাদির হোসেন গার্ড অব অনার প্রদান করেন। জানাজার নামাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠানসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, শফিকুল হোসাইন চৌধুরী (৭৮) শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
এক নজরে শফিকুল হোসেন চৌধুরীর জীবনী-
১৯৪৭ সালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল হোসেন চৌধুরীর জন্ম। হযরত শাহ চাঁন মিয়া চৌধুরী (রা:) বংশধর। পিতা মরহুম আব্দুল গফুর চৌধুরী।
তিনি ১৯৬২ সালে জগদীশপুর জেসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ভর্তি হন সিলেট এমসি কলেজে। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে শফিকুল হোসেন চৌধুরী সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এমসি কলেজে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের জনসভা পণ্ড করার অভিযোগে কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৯৬৫ সালে তাকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করে। ফলে তিনি আইএ পরীক্ষা দিতে পারেন নি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কুমিল্লার চাঁদপুর কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে শফিকুল হোসেন চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ৩ ও ১১ নং সেক্টরে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেন। মেজর শফিউল্লাহর নির্দেশে ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে শফিকুল হোসেন চৌধুরী ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে গেরিলা বাহিনী গঠন করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
মাধবপুর, লাখাই ও নাসিরনগর থানায় গেরিলা অপারেশন চালানোর জন্য তাঁকে কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে ৩ থানায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য গেরিলা হামলা চালানো হয় এবং অনেক পাক সেনা ও রাজাকার নিহত হয়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর লাখাই থানার পুলিশ বাহিনী তার নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং লাখাই পাক হানাদার মুক্ত হয়।
অনেক সময় হানাদার বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে তিনি মেঘনা নদী অতিক্রম করে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করতেন। ১৯৭১ সালে ২২শে ডিসেম্বর তিনি তার বাহিনী সহ মাধবপুর থানায় আত্মসমর্পন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর আপন ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম চৌধুরী শহিদ হন।
স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে তিনি মনোনিবেশ করেন। তিনি ১৯৭৪-১৯৮২ সন পর্যন্ত মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং প্রায় ১৬ বছর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে পদক লাভ করেন।
১৯৮০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান ও এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট থাকায় তিনি একজন জননন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃত।
শনিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ভাই-বোনসহ ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শফিকুল হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শিল্পপতি, দানবীর ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. তৌফিকুল আলম চৌধুরী ২৯ মে ২০১৬ ইং তারিখে ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।