Sylhet Today 24 PRINT

তারাপুরের অবৈধ স্থাপনার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ আগস্ট, ২০১৬

রাগীব আলীর জালিয়াতির মাধ্যমে দখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তিতে তৈরি বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে আবারও নোটিশ দিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ছাড়া বাকি স্থাপনাকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে এই সময়ের মধ্যে না সরলে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।  

আর রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অবৈধ স্থাপনা সরাতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রসাশক জয়নুল আবেদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,", বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন কেটে ফেলার সিদ্ধান্তগুলো আবাসিক স্থাপনা ও মার্কেটের জন্য। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
আর মেডিকেল কলেজের ব্যাপারে এটর্নি জেনারেলের পরামর্শে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

এই নোটিশের অনুলিপি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকেও পাঠানো হয়েছে।


চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এসব স্থাপনা অবৈধ হবার পর স্থাপনা সরাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৬ মাস সময় বেধে দেয়া হয়। গত ১৭ জুলাই ৬ মাস পার হলেও কোন স্থাপনাই সরানো হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে প্রথম দফা নোটিশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। ওই সময়েও স্থাপনা না সরানোয় গত ৩১ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক বৈঠকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেধে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তারাপুর চা বাগান দখল করে কথিত দানবীর রাগীব আলীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বসত বাড়িসহ  ৩৩৭টি স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। ১৫ মে এ বাগানের ৪২২.৯৬ একর জায়গার মধ্যে স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েতে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এবার স্থাপনা সরানোর নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় পর্যায় ক্রমে আদালতের নির্দেশ পালন শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।


উল্লেখ্য, ১৯১৫ সালের ২ জুলাই তারাপুর চা বাগানের তৎকালীন মালিক বৈকুণ্ঠচন্দ্র গুপ্ত শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউ দেবতার নামে বাগানটি উৎসর্গ করেন। তখন থেকেই ৪২২.৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা তারাপুর বাগানটি পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। বৈকুণ্ঠচন্দ্র গুপ্তের পর তার ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত এ দোবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত হন। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাগানটি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজেন্দ্র গুপ্ত ও তার তিন ছেলে শহীদ হন। তার তিন মেয়ে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পাক সেনারা। পরবর্তীকালে পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ভারত চলে গেলে ১৯৯০ সালে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। আদালতের রায়ে এ দখলকে প্রতারণামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের আপীল বিভাগ তারাপুর চা বাগান শিল্পপতি রাগীব আলীর দখল থেকে উদ্ধারের রায় দেন। এছাড়া তারাপুর চা বাগানে নির্মিত সব অবকাঠামো ৬ মাসের মধ্যে অপসারণ করে সে জায়গায় চা বাগান করার আদেশ দেন আপীল বিভাগ। রাগীব আলী গং অবকাঠামো অপসারণে করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়ে স্থাপনা অপসারণের কথাও উল্লেখ করা হয় রায়ে। তবে এ খাতে ব্যয় হওয়া অর্থ জেলা প্রশাসক রিট আবেদনকারীদের (রাগীব আলীর ছেলে) কাছ থেকে গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.