বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৯ আগস্ট, ২০১৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে বেলাল আহমদ (৫৬) নামে এক ব্যক্তির বাম হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হামলায় বেলাল আহমদের স্ত্রী আয়রুন বেগম (৪৫) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারতল-ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। আহত দুজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গছে, বোবারতল-ইসলামনগর গ্রামের বেলাল আহমদ ও তাজিম উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি জমি থেকে লেবু চুরির ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনার জের ধরে গত রবিবার (৭ আগস্ট) বেলাল আহমদের পক্ষের লোকজনের হামলায় তাজিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাজিম উদ্দিনের বাম কানসহ কাঁধ পর্যন্ত কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় তাজিম উদ্দিনের বাবা আব্দুস শুকুর বাদী হয়ে সোমবার (৮ আগস্ট) বেলাল আহমদ, তাঁর স্ত্রী আয়রুন বেগম ও ছেলে কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ কামরুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে এদিন সোমবার মামলা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাজিম উদ্দিনের লোকজন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বেলাল আহমদের উপর হামলা করলে হামলাকারীদের দায়ের কোপে বেলাল আহমদের বাম হাতের কনুইয়ের উপর থেকে নিচের অংশ আলাদা হয়ে গেছে।
তাঁকে রাত সোয়া সাতটার দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বেলাল আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় আহত বেলাল আহমদের স্ত্রী আয়রুন বেগমকেও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র সরকার মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রবিবার জাগাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারি হয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল সোমবার তাজিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে মামলার পরই এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পর তাজিম উদ্দিনের পক্ষের লোকজন বাড়ি ফিরে গিয়ে বেলাল আহমদের উপর হামলা করে। হামলায় বেলালের বাম হাতের কুনইর উপরে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।’