Sylhet Today 24 PRINT

বিলম্বিত হচ্ছে তারাপুরের অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ প্রক্রিয়া

হাইকোর্টে মামলা থাকা তিনটি প্লট চিহ্নিত করে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ

দোদুল খান |  ১৪ আগস্ট, ২০১৬

তারাপুর চা বাগান এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের আদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে শনিবার (১৩ আগস্ট)। কিন্তু এ মৌজায় থাকা তিনটি প্লটের মালিকানা সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় ওই প্লটগুলোর দাগ চিহ্নিত না করে  গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের ৪২২.৯৬ একর জায়গা ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ১৯৯০ দখলে নেন সিলেটের দানবীর বলে পরিচিত রাগীব আলী। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বেঞ্চ বাগান পুনরুদ্ধারের আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এরপর চা বাগান এলাকার ৩২৩ একর জায়গা পুনরুদ্ধার করে আবারো তার মূল সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় সিলেটের জেলা প্রশাসন। তবে বাকি জায়গাতে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন থাকায় জটিল হয়ে যায় বাগান পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া।

উচ্চ আদালতের নির্দিষ্ট ৬ মাস শেষ হয় জুলাইয়ের ২০ তারিখ। তারপর আরো বর্ধিত সময় ১০ দিনও শেষ হয় ৩০ জুলাই। ৩১ জুলাই সিলেট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে এক বৈঠক শেষে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়।

এদিকে এই সময় পেরিয়ে যাবার পর রোববার ১৪ আগস্ট ওই এলাকার বাসিন্দারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের ব্যাপারে জালালাবাদ গ্যাসের আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্র (উত্তর) এর ব্যবস্থাপক ফজলুল হক জানান, তারাপুর বাগান এলাকার বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে জেলা প্রশাসকের আদেশের অনুলিপি আমরা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আমরা জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করছি”।

জেলা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মেয়াদ শেষ হলেও করা যাচ্ছে না বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণের আদেশ হাতে পেয়েছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পরবর্তী আদেশের পর আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবো”।

সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশ জেলা প্রশাসনকে অবশ্যই পালন করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তারাপুর এলাকার ৩টি প্লটের মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। এ তিনটি প্লট চিহ্নিত করণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এগুলো চিহ্নিত করার পরই সমস্ত এলাকার সবকটি অবৈধ স্থাপনার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে”।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.