নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ আগস্ট, ২০১৬
পঞ্চান্ন বছর বয়সী আলাউদ্দিন আকঞ্জীর মায়ের বয়স ৯০। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গোছাপাড়া গ্রামের বাড়িতেই থাকেন তিনি। তাঁকে দেখতে কিছুদিনের মধ্যে তার ছেলে আলাউদ্দিনের আসার কথা ছিল দেশে। টিকেটও কেটেছিলেন আলাউদ্দিন। কিন্তু শেষ দেখা হলো না মা’কে। শনিবার নিউইয়র্কে আততায়ীর গুলিতে খাদেম তারা উদ্দিন (৬৪) সহ নিহত হন আলাউদ্দিন আকঞ্জী।
হবিগঞ্জের প্রয়াত প্রখ্যাত পুঁথি সাহিত্যিক ও সুন্নী আলেম মাওলানা শামসুদ্দিন আখঞ্জীর ছেলে মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জীর গ্রামের বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের গোছাপাড়া গ্রামে। তিন মেয়ে ও পাঁচ ছেলের মধ্যে এক ছেলে ছাড়া বাকি সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা ও তার স্বামীর মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাড়ি জমান মাওলানা আলাউদ্দিন, তার স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে।
মাওলানা আখঞ্জী দেশে থাকতে হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও নিউইয়র্কের কুইন্সের আল ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর আরেক ভাই নাসির উদ্দিন আখঞ্জী হবিগঞ্জ শহরের টাউন মসজিদের ইমাম এবং দেশে থাকা ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আখঞ্জী থাকে শায়েস্তানগরের নিজস্ব বাসায়।
গত শনিবার দুপুরে কুইন্সের আল-ফুরকান জামে মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জী ও তাঁর সহকারী তারা উদ্দিন। বন্দুকধারী খুব কাছ থেকে দুজনকে গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দুজন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলাউদ্দিন। আর হাসপাতালে নেওয়ার কিছু পরে মারা যান তারা উদ্দিন।
মাওলানা আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আখঞ্জীর শায়েস্তানগরের বাসায় ভিড় জমান স্বজন, প্রতিবেশী ও আলাউদ্দিন আখঞ্জীর সাবেক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা।
নিউইয়র্কে আলাউদ্দিন আখঞ্জীর হত্যার প্রতিবাদে রবিবার বিকেল ৫টায় আসরের নামাজ থেকে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মিছিলটি জেলা সদরের চৌধুরীবাজার জামে মসজিদ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক বক্তব্যে আলাউদ্দিন আকঞ্জীর ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আখঞ্জী এ হত্যাকাণ্ডকে ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।
নিহত আলাউদ্দিন আকঞ্জীর মৃতদেহ দেশে আনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নিহতের আরেক ছেলে নাইম উদ্দিন আকঞ্জী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মৃতদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করছে পুলিশ। মৃতদেহ পেলেই ঠিক করা হবে তাঁর দাফন যুক্তরাষ্ট্রে নাকি বাংলাদেশে হবে। তবে মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান তিনি।