ডেস্ক রিপোর্ট | ২৭ মার্চ, ২০১৫
সিলেটের গোলাপগঞ্জের সুন্দিশাইলে ২৩ শহীদ স্মৃতিসৌধে ১৯ জন শহীদের নামের সাথে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর যুক্ত হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আশফাক আহমদের নাম। গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছে স্থানীয় সংগঠন সুন্দিশাইল ২৩ শহীদ স্মৃতি সংসদ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গোলাপগঞ্জের সুন্দিশাইল গ্রামে ঐতিহাসিক ২৩ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে নাম বাদ পড়া শহীদ আশফাক আহমদের নাম নবরূপে স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম খান।
ফলক উন্মোচন শেষে তিনি বলেন, এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের অনেক কাহিনী অজানা রয়েছে। শহীদদের যথাযথ সম্মান ও স্মৃতি সংরক্ষণ করতে সরকারের পাশাপাশি সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আশফাক আহমদ তার আত্মদানের স্বীকৃতি পেলেন আর এ স্বীকৃতি দিয়ে সুন্দিশাইল গ্রামবাসী ও ২৩ শহীদ স্মৃতি সংসদ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বলেন সাংবাদিক ফয়ছল আলমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ শহীদের নাম বের হয়েছে জেনে আমরা খুবই আনন্দিত। তিনি এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
২৩ শহীদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা সংসদের সভাপতি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াদুদ এমরুলের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য তানভীর আহমদ শিপুর উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সফিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মৌরিন করিম, গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক শিবলী, ওসি তদন্ত জালাল উদ্দিন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী, আব্দুর রব, আব্দুর রহমান, সমাজ কর্মী জুনেল আহমদ, শহীদ পরিবারের পক্ষে জাহাঙ্গীর মজিদ, খলিলুর রহমান, চেরাগ উদ্দিন, হেলাল আহমদ, মামুনুর রশিদ, জয়নাল আবেদীন, খলিল আহমদ, সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, সুন্দিশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা গোপা পাল, সহকারী শিক্ষিকা শিখা রাণী ভূইয়া, হাজেরা বেগম, শাম্মী আক্তার প্রমুখ।
এসময় মোনাজাত পরিচালনা করেন সুন্দিশাইল পূর্ব জামে সমজিদের ইমাম তৈয়বুর রহমান।
উল্লেখ্য, আশফাক আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং ফাজিলপুর গ্রামের আকদ্দছ আলীর পুত্র ছিলেন ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর সুন্দিশাইল গ্রামে পাকিন্তানি মিলিটারী বাহিনীর হাতে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন তিনি সহ আরো ২২ জন।
৪৪ বছর পর শহীদ আশফাক আহমদের প্রতি সম্মান দেখানোর ফলে তার স্বজনরা খুশি হয়েছেন। তার বড় ভাই মাওলানা সালেহ আহমদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এ জন্য তিনি ২৩ শহীদ স্মৃতি সংসদকে কৃতজ্ঞতা জানান।