নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ মার্চ, ২০১৫
সিলেটে ওসমানীনগরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মন্টু দেবকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাছুম আহমদ রাজু (১৯)। জোরপূর্বক শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলতে চাওয়ায় মন্টুকে হত্যা করে বলে আদালতে জানায় রাজু।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বিত্বীয় জেরিন সুলতানার আদালতে এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
রাজু নেত্রকোনা জেলার মদনপুর গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে। সে ওসমানী নগরের রবিদাসপুরে তার মামার বাড়িতে থাকতো। যে রাতে মন্টু খুন হন সে রাতে মন্টু দোকানে তার সাথে রাজুও রাত কাটান।
জবানবন্দিতে রাজু বলে, দোকানে কেনাকাটা করার সুবাধে মন্টুর সাথে তার পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠে। গত ২৩ মার্চ রাতে মন্টুর দোকানে আসেন রাজু। রাত হয়ে যাওয়ায় রাজুকে দোকানে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দেন মন্টু। অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় রাজুও সেখানে থেকে যায় ।
আদালতে রাজু বলে, গভীর রাতে নিহত মন্টু দেব (৪৫) যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে রাজুকে বলাৎকার করার চেষ্টা করে। রাজু তাতে রাজি না হলে মন্টু ধস্তাধস্তি শুরু করে এক পর্যায়ে রাজু দোকানে থাকা মাপলার ও রড দিয়ে মন্টুকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
সে পালানোর সময় মন্টুর মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং ফোনটি নিয়ে ওসমানীনগরের রবিদাস পুরের সুরত আলীর ছেলে আব্দুর রহিম(২২)(রাজুর মামাতো ভাই) এর কাছে রাখে ।
এ ব্যাপারে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুরসালি জানান, ওসমানীনগরের মুদির দোকান ব্যবসায়ি মন্টু দেব হত্যায় মাছুম আহমদ রাজু ও তার মামাতো ভাই আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।।
তাদের মধ্যে রাজু আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
উল্লেখ্য,গত ২৩ মার্চ সোমবার মন্টু দেব'র সাথে তার দোকানের রাত কাটান রাজু। পরদিন ভোর সাড়ে ছয়টার দোকান থেকে মনু দেব'র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় মন্টু দেবের মুখের ভেতর মাপলার ঢুকানো ও গলার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নবীন দেব (৪৩) বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় ১৪(৩)১৫ ইং ৩০২/৩৮০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।