Sylhet Today 24 PRINT

মাত্র এক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন নিহত ব্যবসায়ী মামুন

অরণ্য রণি  |  ১৭ আগস্ট, ২০১৬

মঙ্গলবার জিন্দাবাজারে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে জখমের পর বুধবার ভোরে মারা যাওয়া করিম বক্স মামুন মাত্র তিন মাস থেকে এলিগ্যান্ট শপিং মলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বাবা আনোয়ার বক্সের চাকরির সুবাদে দুবাইতে জন্ম নেয়া মামুন ২০১৩ সালে সপরিবারে দেশে ফিরে আসেন। বছরখানেক আগে বিয়েও করেছিলেন তিনি। দেশে চলে আসার পর পৈতৃক সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন তরুণ মামুন।

মামুনের চাচা ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মামুন ছোট বেলা থেকেই ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী স্বভাবের। সব সময় শান্ত-শিষ্ট থাকতেন। তাঁর ছিলো পরোপকারী মনোভাব। কারো উপর অন্যায় হতে দেখলে তিনি প্রতিবাদ করতেন। সেরকমই প্রতিবাদ করতে গিয়ে মঙ্গলবার ছুরিকাহত হয়ে প্রাণ যায় তাঁর।"

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর জল্লারপাড়ের বাসিন্দা মামুন  তিন ভাইয়ের মধ্যে  দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই ২০১২ সালে দুবাইয়ে মারা যান। ফয়সল আহমদ জানান, ৩ মাস আগে মামুন "বক্স টেলিকম"  নাম দিয়ে নতুন মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করেন এলিগ্যান্ট শপিং মলে।  

এই ঘটনার অন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে মামুনের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে চলে যায়  হামলাকারী ২/৩ জন। ছুরি হাতে থাকা যুবকের পরনে বাদামী রঙের টি-শার্ট ছিল।"

এলিগেন্ট শপিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী জাবেদ মিয়া সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মোটরসাইকেল করে তিন যুবক বেলা ২টার দিকে মার্কেটের সামনে গাড়ি রাখলে নিচে পার্কিং  করে গাড়ি রাখার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে সরকারি রাস্তায় গাড়ি রাখছি, এটা কি তোর বাপের জায়গা?"

তিনি বলেন, "এরপর অন্য গার্ড কাচা মিয়া এগিয়ে আসলে ওই তিন যুবক আমাদের পেটাতে শুরু করে। এ সময় ব্যবসায়ী মামুন এগিয়ে এসে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেন কিন্তু তারা তাঁর  দিকেও তারা ক্ষিপ্ত হয়। পরে হাতাহাতি শুরু হলে জল্লারপাড় রোডের দিকে দৌড়ে নিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেলে করে চলে যায়। এ সময় আরেকটি মোটরসাইকেল নিয়েও হামলাকারীদের সঙ্গিরা এসেছিল।"


সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) রহমতুল্লাহ রাত ৮টায় মুঠোফোনে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে, "প্রকাশ্য দিবালোগে এই ঘটনা ঘটেছে কাজেই আসামী লুকানোর জায়গা নেই,  এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, " এই ঘটনার আসামী শনাক্ত করা হয়েছে, আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.