কুলাউড়া প্রতিনিধি | ১৭ আগস্ট, ২০১৬
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বুধবার (১৭ আগস্ট) মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আমরা কুলাউড়াবাসী’ নামের নাগরিক সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ ব্যাপারে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কুলাউড়া-জুড়ী সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও উপজেলা জাসদ সভাপতি মইনুল ইসলাম শামীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, ও কাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ছালাম, ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, মানবাধিকার কমিশন কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি এনামুল ইসলাম, ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইব্রাহিম তালুকদার, বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক, নবীন চন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আমিনুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালিক, পৌর জাসদের সাধারণ সম্পাদক শফিক মিয়া আফিয়ান, রাবেয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, কুলাউড়া পৌর আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওয়াহিদ, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া শাখার সভাপতি আব্দুস সহিদ মাখন, কুলাউড়া কৃষক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এহসান আহমদ টিপু প্রমুখ।
মানববন্ধনে স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ‘আমরা কুলাউড়াবাসী’র যুগ্ম আহবায়ক ও ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিপার উদ্দিন আহমদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে ও ইসিজি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালু করা হয় না। বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে ঔষধ পাওয়া যায় না। প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সপ্তাহে মাত্র দুই-তিন দিন হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড বয়রা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।
চিকিৎসকেরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। হাসপাতালের পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই বিকল থাকে। সেখানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভিড় লেগে থাকে। এসব অ্যাম্বুলেন্সের চালকেরা রোগীদের নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. মিজানুর রহমান হাসপাতালের ভেতরে বাসার চেম্বারের সামনে অবৈধভাবে নাক, কান, গলা ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ পদবি ব্যবহার করে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন তাকে সেটি সরানোর নির্দেশ দিলেও তিনি সাইনবোর্ডটি সরাননি। চিকিৎসার নামে তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈদ এনাম নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন। তাদের গাফিলতির কারণে হাসপাতালে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই সাধারণ রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. মিজানুর ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈদ এনামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ তাকে প্রত্যাহার এবং অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এছাড়া ও বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলার ভাটেরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ দেব ও অফিস সহকারী ফজলুল করিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের বিনা চিকিৎসায় প্রায় ২০ মিনিট হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান না করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আশুতোষ দেব মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ই-মেইল ও ডাকযোগে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় শিক্ষকের চিকিৎসায় অবহলোর ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।