Sylhet Today 24 PRINT

আত্মসাতকৃত অর্থ তিন মাসের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজকে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৮ মার্চ, ২০১৫

গ্রাহকদের পাওনা সিকিউরিটিজ ও অর্থ পরিশোধ করতে আরো তিন মাস সময় পেল সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেড। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার পর আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তা পরিশোধের নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার নিয়মিত কমিশন সভা শেষে বিএসইসি আরো জানিয়েছে, গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়টি সমন্বয় ও তদারকির জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ডিপোজিটরি সেবাদাতা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে নির্দেশ দেয়া হবে।

মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানায়, সিলেট মেট্রোসিটি তাদের গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে— আগেই তা নিশ্চিত করেছে কমিশনের তদন্ত দল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন গত ২ নভেম্বর সিলেট মেট্রোর গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থ ও শেয়ার ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়াটি তদারকির দায়িত্ব দেয় সিএসইকে। এর পর ৩০ নভেম্বর ও ২৭ জানুয়ারির দুই দফা হালনাগাদ প্রতিবেদনে কমিশনকে অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে স্টক এক্সচেঞ্জ।

সেখানে দেখা যায়, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রোকারেজ হাউজটি। সার্বিক বিবেচনায় আগামী ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকদের সব পাওনা নিষ্পত্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এ সময়ের মধ্যে সিলেট মেট্রোসিটির গ্রাহকদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় এবং তদারকির জন্য সিএসই ও সিডিবিএলকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

জানা গেছে, সিএসইর ট্রেকহোল্ডার মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক রয়েছে। কোম্পানিটির আগের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আগের পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। ২০১৩ সালের ২ জুন থেকে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত সময়ে গ্রাহকদের এ সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়। বিশেষ নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন দুর্নীতিও ধরা পড়ে।

এছাড়া একপর্যায়ে ব্রোকারেজ হাউজটির নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার নিচে নেমে আসে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা ১৯৮৭-এর ৩-(২) অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউজের নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স এক লাখ টাকার কম হলে স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের সদস্যপদের সনদ স্থগিত হয়ে যাবে। পরে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স এক লাখ টাকার উপরে উঠে গেলে সে সনদ কার্যকর হবে। নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স এক লাখ টাকার কম থাকায় গত বছরের ৩ এপ্রিল থেকে সিএসই কর্তৃপক্ষ মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজের সব লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান কার্যালয়সহ মোট সাতটি শাখায় গ্রাহকদের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে গত বছরেরই মে মাসে সম্পদ দায়ের হিসাব বিবরণী সিএসইতে দাখিল করে সিলেট মেট্রো, যেখানে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স প্রায় কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্সের শর্ত পূরণ হলেও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ না করায় লেনদেন কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বহাল রাখে সিএসই। পরবর্তীতে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) স্থগিতের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানায় সিলেট মেট্রোসিটি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চালু করার পক্ষে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। পরবর্তীতে চেম্বার আদালতে এ আদেশ স্থগিত হলেও গত ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে শেয়ার লেনদেন চালু করার ক্ষেত্রে আইনগত সব বাধা দূর হয় ব্রোকারেজ হাউজটির।

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.