Sylhet Today 24 PRINT

রোববার জুড়িতে ভোট, আলীগে বিভক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপির প্রার্থী

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ২৮ মার্চ, ২০১৫

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাত পোহালেই জুড়ী উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন। রোববার (২৯মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৬ ইউনিয়নে গঠিত এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা মোট ৮৯৪০১জন।

নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (২৮মার্চ) বিকেলের মধ্যেই প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উপনির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ প্রার্থী বদরুল হোসেন (আনারস) প্রতীক নিয়ে, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম এমএ মুমিত আশুকের স্ত্রী গুলশানা আরা মিলি (ঘোড়া), জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পূর্বজুড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমদ (উড়োজাহাজ), হুসনে আরা (মোটরসাইকেল), তাজুল ইসলাম (কাপ পিরিচ) ও আব্দুল মুহিত শিপলু (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কিন্তু সব কিছু চাপিয়ে এখন আলোচনায় ৩ প্রার্থী। তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ প্রার্থী বদরুল হোসেন, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম এমএ মুমিত আশুকের স্ত্রী গুলশানা আরা মিলি ও জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পূর্বজুড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমদ।

জনা গেছে, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলী সমর্থিত দুই প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ প্রার্থী বদরুল হোসেনকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ আসন (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো: শাহাব উদ্দিন এমপি। এদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলী তৃণমূলের ভোটে পরাজিত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতার্কীদের মাঝে পরস্পরবিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে। স্থানীয় এ নির্বাচনের বিভক্তি স্থায়ী হওয়ারও আশংকা প্রকাশ করেন আওয়ামীলীগের সমর্থকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা জনান, জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এখানে তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ প্রার্থী বদরুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ষোষণা করে সাবেক জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম এমএ মুমিত আশুকের স্ত্রী গুলশানা আরা মিলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সমর্থন দেওয়ায় এ উপজেলার উপনির্বাচনে বিভক্ত হয়ে পড়েন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক চা শ্রমিক চা বাগানের ভোটাররা।

এতে করে কপাল খুলতে পারে বিএনপি প্রার্থী জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পূর্বজুড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমদের। নেতাকর্মীরা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ২০১৪ সালের জেলা সদরের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সমর্থিত দু’প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে সদরে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন। এখন কর্মী-সমর্থকরা আশংকা করছেন জেলা সদরের মতো এ উপজেলায় ও কি আওয়ামীলীগের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়।

উপনির্বাচন নিয়ে সবার মাঝে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কে হাসবেন শেষ হাসি সেটা জানা যাবে রোববার ভোট গ্রহন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর।

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.