নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ আগস্ট, ২০১৬
ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশনী জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামী মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন থেকে খুনে জঙ্গি হয়ে উঠে। এর আগে শামীম হিযবুত তাহরিরের প্রচারপত্র বিলির সময়ে ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হয়।
মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের আগে তার কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না দাবি করেছে পরিবার।
গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বুধবার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টঙ্গী থেকে দীপন হত্যার আসামি শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার সম্পর্কে তথ্য দিতে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ডিএমপি। লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ভিন্নমতাবলম্বীসহ অন্তত ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত মে মাসে পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন ছয় জঙ্গির ছবি প্রকাশ ও পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই ছয়জনের মধ্যে শামীম ছিল।
জানা গেছে, মইনুল হাসান শামীমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। তার বাবা মৃত আবদুল কুদ্দুছ।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশেক সুজা মামুন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ২০১০ সালে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের লিফলেট বিতরণ কালে তাকে আটক করেছিল ছাতক পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে সে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে যায়। এই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন আছে বলে জানান ওসি।
জানা যায়, শামীম মদন মোহন কলেজে ব্যবসা প্রশাসনে পড়ার সময় সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারের একটি বাসায় বসবাস করত। ওখানেই উগ্রবাদী মতবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে সে। তার মুহিন নামের এক চাচাত ভাইও জঙ্গি সন্দেহে আটক হয়েছিল।
ছয় ভাইবোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। বড় ভাই আবু জাফর টিপু ছাতক শহরে একসময় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন সিলেট সরকারি কলেজে। তিনি ছোট তিন ভাইকে সিলেট শহরের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করেন। অপর দুই ভাই নাজমুল হাসান লিটু ও মঞ্জুরুল হাসান মনজু লন্ডনে আছেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা আবদুল কুদ্দুছ পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন।
শামীমের বড় ভাই আবু জাফর টিপু বলেন, ‘শুনেছি সে ঢাকায় গিয়ে বড় সন্ত্রাসী হয়েছে, মানুষ খুন করেছে। আমরা এর কিছুই জানি না। গত ঈদেও সে বাড়িতে আসেনি। তখন থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, ৩১ নভেম্বর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের নিজ অফিসে দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফেনীর ফুলগাজী থেকে মুফতি জাহিদ হাসান মারুফ নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছিল।