তাহিরপুর প্রতিনিধি | ২৯ আগস্ট, ২০১৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’দল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে সংঘর্ষে জড়িত ৮ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ভুলের জন্য বহিস্কারের মত কঠিন সিদ্ধান্ত না নেবার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। তারা মনে করেন এতে করে শিক্ষার্থীদের মনের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হবে। তারা লেখা পাড়ার পথ পরিহার করে যে কোন অপরাধমুলক কাজের সাথে জড়িয়ে পরতে পারে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে স্কুল ও পারিবারিক শাসনের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়।
জানা যায়, শনিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণীর দু’দল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
আহত ১৫ জন শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান শিক্ষক বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেন। এর পর দিন রোববার (২৮ আগস্ট) বিকালে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে খেলার মধ্যে কথা কাটাকাটিতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্ররা দু-দলে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় তা দুঃখজনক বলে অভিহিত করা হয়। ফলে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন সবাই।
দীর্ঘদিন ধরেই ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রকি আহমেদ, ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছপিয়া, আরাফাত হোসেন শিপন, রিফাতুল ইসলাম হৃদয়, সাজ্জাদ হোসেন ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়াছিন মিয়া, হানিফ মিয়া, আল মামুন বিদ্যালয়ে এসে নানা রকমের অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। পরে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ঐ ৮ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন, তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু, সহকারী শিক্ষক মোক্তার হোসেন, আফজালুল হক শিপলুসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলার সচেতন এলাকাবাসী জানান, স্কুল জীবনে ভুল করতেই পারে, এখন তাদের শিখার সময়। তাদের মনে এখনও ভাল-মন্দ বুঝার মত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তাদের স্কুল, পরিবার ও সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার মাধ্যমে ছোট ছোট ভুলগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হউক তবে বহিস্কার নয়।
বাদাঘাট পাবলিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আমাদের এই সিদ্ধান্ত উনাকে জানাব,উনার সিদ্ধান্তের পর তা কার্যকর হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসিল্যান্ড রফিকুল ইসলাম জানান, আমার কাছে এখন পর্যন্ত ৮ জন শিক্ষার্থী বহিস্কারের কোন নোটিশ বা চিঠি আসে নি, আসলে দেখবো।