দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ৩১ আগস্ট, ২০১৬
গতবছরের মতো এবারও ঈদ-উল-আযহায় নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দিতে হবে। এ জন্য ২৭ টি ওয়ার্ডে ২৭টি স্থান নির্ধারণ করে দেবে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গতবছরও এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রচার প্রচারণা অভাবে তেমন সাড়া মিলে নি।
ফলে এবার নির্দারিত স্থানে পশু কোরবানিতে উদ্ভূদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সকল নাগরিকদের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ প্রেরণ, প্রচারপত্র বিলি, মাইকিং করবে সিসিক।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগরীর গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য অপসারণ ও নির্দেশনা প্রচারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। তবে এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহীত পরিকল্পনা মোতাবেক সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশাবাদী সিসিক কর্তৃপক্ষ।
এ বছর কোরবানির জন্য সিলেটের ২৭টি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৭ টি স্থান নির্ধারণ করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং এই স্থানগুলোতেই পশু কোরবানি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব।
প্রসঙ্গে এনামুল হাবিব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হিসেব মতে, এবার নগরীতে ১৫-১৭ হাজার পশু জবাই করা হবে। আর সিটি কর্পোরেশন চেষ্টা করবে সকল পশুর কোরবানি যেন নির্ধারিত স্থানেই হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দাতার জন্য অভিজ্ঞ কসাইসহ থাকবে, তাঁবুর নিচে বসে থেকে নিজের পশু কোরবানি ও তার পরবর্তী ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সুযোগও থাকছে বলে জানান তিনি।
নগরীর ১নং ওয়ার্ড বাসিন্দা আব্দুল বাতিন জানান, প্রতি বছরই বর্জ্য অপসারণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও শেষে যত্রতত্র অবৈধ হাট ও যেখানে সেখানে কোরবানি দিতে দেখা যায়। এ কারণে ঈদের দুইদিন পরও বর্জ্য পরিষ্কার হয় না। এ ব্যাপারে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন তিনি।
সিসিক প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবীব বলেন, নাগরিকরা যদি নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দেন, তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যেমন সহজে করা যাবে, তেমনি পরিচ্ছন্ন থাকবে নগরীর রাস্তাঘাট। তবে এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতার। সচেতনতা বাড়াতে এ বছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে নাগরিকদের মোবাইলে বার্তা পাঠানো হবে। প্রতিটি বাড়িতে লিফলেট বিতরণ করা ছাড়াও স্থানীয় কেবল অপারেটরের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে বলে সিসিক কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দিন নগরীতে ২০০ থেকে ২৫০ মেট্রিক টক বর্জ্য উৎপাদন হয় এবং কোরবানির ঈদের সময় তা বেড়ে দাড়ায় ৩৫০-৪০০ মেট্রিক টনে। সিসিকের নিয়মিত ২১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সাথে প্রতি ওয়ার্ডে ৪ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রাত্যহিক বর্জ্য অপসারণে কাজ করলেও প্রতি বছরের ন্যায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগ দেয়া হবে আরো ১০০ -১৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এছাড়াও সামগ্রিক বর্জ্য অপসারণে একটি কন্ট্রোল সেন্টারও বসানো হবে বলে জানায় সিসিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কোরবানির ঈদের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা প্রদানে প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় কাউন্সিলর ও ইমামদের তত্বাবধানে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিগুলো প্রতিটি ওয়ার্ডে কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াও ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে কোরবানির স্থানে আসতে না পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।