Sylhet Today 24 PRINT

আতাউল্লাহ সাকের মিথ্যাচার করছেন, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট |  ৩১ মার্চ, ২০১৫

সিলেট নগরীর করিম উল্লাহ মার্কেটের স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ী আতাউল্লাহ সাকের ও তার সহযোগীরা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাগানের ভুমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন টি প্লান্টার ও টি ম্যানুফেকচার ব্যবসায়ী মো.ইয়াছিন উসমান।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নগরীরর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আতাউল্লাহ সাকের গংরা তার মানসম্মান ক্ষুন্ন করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এই চা বাগান মালিক।

লিখিত বক্তব্যে মো.ইয়াছিন উসমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জনৈক আতাউল্লাহ শাকের আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আতাউল্লাহ সাকের তাকে হত্যা ও গুম করা হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। উল্টো সাকেরগংরা তাকে হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ইয়াসিন উসমান। এতে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

ইয়াসিন উসমান বলেন, সাকের আমার কাছে কয়েক কোটি টাকা পাওনা আছে বলেও নানা অপপ্রচার করছেন। তার প্রকৃত সত্য হচ্ছে সিলেট নগরীর মহাজনপট্রির মাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মুহিবিন আব্দুল খালিকের সাথে বিগত ২০১০ সাল থেকে আমার চা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা ছিল।

এর সুবাদে মুহিবিন আব্দুল খালিকের সাথে বিভিন্ন সময়ে জামানত হিসেবে আমার চেক আদানপ্রদান হয়েছে। ব্যবসার সুবাদে আমার কাছে মুহির প্রায় আড়াই কোটি টাকা পাওনা দাড়ায়। কিন্তু সময়মত চা সরবরাহ করতে না পারায় উক্ত টাকার বিপরীতে মুহি আরো বেশি টাকা দাবি করেন। মুহির দাবিমত আমার কাছে পাওনা দাড়ায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

পাওনা পরিশোধ নিয়ে মুহির সাথে আমার কথাবার্তা চলাকালে এক পর্যায়ে ঢাকার সাভারে আমার ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য সাকেরের সাথে ১১ কোটি টাকায় দর সাব্যস্তক্রমে রেজিস্ট্রি কাবলা চুক্তিতে এর মুল্য কম দেখিয়ে ৮ কোটি টাকা ধার্য্য করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সাকের আমার পাওনাদার মুহিকে ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে।

পরে সুকৌশলে আতাউল্লাহ সাকের জিম্মাদার সেজে মুহির নিকট আমার রক্ষিত সাক্ষরযুক্ত ব্লান্ক ও টাকার পরিমাণ উল্লেখসহ সর্বমোট ১১ টি চেক তার নিকট নিয়ে নেয়।

মুহি তার এক অঙ্গিকারনামায় স্বীকারও করেছে যে, চেকগুলো আমাকে দেওয়ার জন্য সাকেরকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দিয়েছে।

সাকের চেকগুলো আমাকে না দিয়ে ৬ টি চেকে ইচ্ছেমত টাকার পরিমান বসিয়ে মোট ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আমার কাছে পাওনা আছে বলে দাবি করছে। বাকি ৫ টি চেক উদ্ধারের জন্য আমি আদালতে মামলা করি। যার নং( ১৪২/১৪ ইং)।

সাকেরও এক অঙ্গিকারনামায় এসব বিষয় স্বীকার করেছে। যার সাক্ষী আতাউল্লাহ সাকেরের খালাতো ভাই ব্যবসায়ী মো. আবুল মনসুর টিপু।

সাভারে জমি নামজারি নিয়ে জটিলতার কারনে সময়ক্ষেপন হওয়ায় এখনো জমি রেজিস্ট্রি হয়নি।

আতা উল্লাহ সাকের জমির জটিলতা দুর করতে জমির বায়না বাবত আমাকে আরো ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। এই হিসেব অনুযায়ী সর্বমোট আমার কাছে তার পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। জমির জটিলতা দুর হলে এবং জমির দলিল রেজিস্ট্রি হলে সাকেরের কাছে উল্টো আমার পাওনা দাঁড়াবে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় সাকের সাভারের এই জমির জটিলতা দুর হতে না হতেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমার চা বাগান ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে চেকজালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান ইয়াসিন উসমান।

আতাউল্লাহ সাকের তার মানসম্মান ক্ষুন্ন করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তার প্রতিকার দাবি সকল মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন টি প্লান্টার ও টি ম্যানুফেকচার ব্যবসায়ী মো.ইয়াছিন উসমান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.